ডেইলি স্কীন কেয়ার রুটিনে ফেস ওয়াশ একটা গুরুত্বপূর্ণ এবং পরিবর্তনীয় একটা অংশ। প্রতিদিন আপনার মুখের ত্বক খুব যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করা উচিত অন্তত দু’বার। রাতে ঘুমানোর আগে একটা ভালো ফেস ওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে তারপর একটা ক্রীম ব্যবহার করলে ত্বকের ত্বকের একটা সাধারণ পরিবর্তন খুব সুন্দর ভাবেই বোঝা যায়। আপনার ত্বকটা তুলনামূলক পরিষ্কার দেখাবে এবং স্কীন টোন স্বাভাবিক এবং সুন্দর দেখাবে।
তাই বেসিক চর্চার জন্য একটা বাছাই করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গ আসলে অনেকেই নামিদামি একটা ব্র্যান্ডই বেছে নিতে পছন্দ করবেন এখন দামি আদামি অনেক প্রাণ বাজারে আছে পাশাপাশি কিন্তু কম দামে ভাল মানের ফেসওয়াসও আছে। আমার একটা ব্যক্তিগত মতামত যে ফেস ওয়াশ করার জন্যভালো মানের ফেসওয়াস দরকার সেটা খুব বেশি দামি না হলেও চলবে যদি আপনার স্কিন টাচ স্বাভাবিক থাকে।
আমি কিছুদিন আগে লিলির একটা ফেসওয়াশ ব্যবহার করলাম তো সে ফেসওয়াশটা নিয়ে বিস্তারিত আজকে জানাতে চাই। লিলির চারটা ফেসওয়াশ সম্ভবত আছে চারটা বা তিনটা আমি ব্যবহার করেছি অয়েল কন্ট্রোল করে যে ফেসওয়াশটা oil স্কিনের জন্য যেটা তৈরি।
ফেসওয়াশটা আমি প্রায় আড়াই মাস যাবত ব্যবহার করার পরে জানাচ্ছি বিস্তারিত তথ্য। লিলি ফেস ওয়াস স্কীন ডিপলি ক্লিন করে এটা বোঝা যায়। আমি অন্যান্য যে ফেস ওয়াস গুলো ব্যবহার করেছি, সব গুলো র থেকে এটা একটু আলাদা মনে হয়েছে। প্রথম বার ফেস পরিষ্কার করা থেকেই স্পষ্ট মনে হয়েছে বেশ ক্লিন হয় ফেসওয়াশ।
ড্রাই ভাব হয়?
না, লিলি oil control ফেস ওয়াশ ব্যবহার এর পর তেমন ড্রাই ভাব আমি বুঝিনি। আমি অবশ্য মুখ ধোয়ার পর খুব তাড়াতাড়ি ময়েশ্চারাইজার বেখে ফেলি। তাই খুব বিশেষ ভাবে ড্রাই ভাব অনুভব হয় নাই।
একনে কমেছে?
আমার একনে প্রবলেম নেই, তবে ফেসের টি জোনে অনেক হেডস আসে, ত্বকের তেলতেলে ভাব বেড়ে গেলেই এই হেডস প্রবলেম বেড়ে যায়। লিলি ফেস ওয়াস ব্যবহার করার ফলে হেডস এর সমস্যা বেশ কমে গিয়েছিল।
ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কি কমে যায়?
মুখ ধোয়ার পর পরবর্তী বেশ কিছুটা সময় মুখ ফ্রেশ থাকে। তবে তা বেশ অল্প কিছু সময়। খুব লম্বা সময় বা উল্লেখ করার মতো কয়েক ঘন্টা নয়। তবে ফেস ধোয়ার পর আশানুরূপ পরিষ্কার ভাব পাওয়া যায়।
এই ফেস ওয়াস এ যে উপাদান গুলো আছে, তার মধ্যে উল্লেখ করার মতো দুটি উপাদান হলো – নায়াসিনামাইড এবং স্যালসালিক এসিড। এই দুটো উপাদান তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেশ উপকারি। কেন? তা কিছুটা জানিয়ে দিচ্ছি-
স্যালিসাইলিক এসিড ত্বকের গভীরে গিয়ে লোমকূপ বন্ধ করে দেওয়া ময়লা এবং মরা কোষ পরিষ্কার করে, ফলে ব্রণ কমে যায়।
- অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ কমিয়ে ত্বক কে ম্যাট রাখে।
- ব্ল্যাক হেডস এবং হোয়াইট হেডস কমায়।
- অপর দিকে নিয়াসিনামাইড এর কাজ গুলো –
- ত্বকের জ্বালা পোড়া বা লালচে ভাব হওয়া কমায়।
- ত্বকের পোরস কমিয়ে ত্বক কে মসৃণ দেখায় এবং সমান্তরাল রাখে।
- ব্রণের দাগ বা পিগমেন্টেশনের দাগ কমায়।
- স্কীন ব্যারিয়ার মজবুত করে।
এই দুই উপাদানের সমন্বয়ে ফেস খুব গভীর থেকে ভালো মতো পরিষ্কার হওয়ার কথা। আমার নিজের অভিজ্ঞতা ও তাই বলে!
প্রায় দুই বা আড়াই মাস ব্যবহার করার সময় একটা নির্দিষ্ট সময়ে র কথা উল্লেখ করতে চাই, সেটা হলো শীতের শুরু র দিকে আমার ফেস অনেক ড্রাই হয়ে যাচ্ছিল। এই সময় টা তে আমি বেশ কিছুদিন এই ফেস ওয়াস ব্যবহার করি নাই। তবে অন্য কিছু দিয়ে মুখ পরিষ্কার করেছি, যেমন বেবি সোপ, রেগুলার বাথ সোপ, কখনও মুলতানি মাটি এবং চালের গুঁড়া র প্যাক ইত্যাদি ব্যবহার করেছি। তা প্রায় সপ্তাহ খানেকের কিছু বেশি সময় হবে।
ফেস এর ড্রাই ভাব কিছুতেই কাটছিল না। আমার পুরো পুরি ধারণা ছিল ডীপ ময়েশ্চারাইজ হচ্ছে না। আমি কোল্ড ক্রীম, এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল, তিব্বত পমেড এগুলো কয়েক দফায় ব্যবহার করেছিলাম, তবে সেই ড্রাই ভাব টা কিছুতেই সমাধান হচ্ছিল না। স্কীনে একটা চর পড়ার মতো ভাব, মাঝে মাঝেই ভেসে উঠছে।
আমি ভাবলাম স্কীন আগের থেকে এবার বেশি ড্রাই হয়েছে। এরপর, একদিন এমনিতেই লিলি ফেসওয়াস ব্যবহার করলাম, হাতের নাগালে পেয়ে আর কি!
সেদিন ড্রাই ভাব টা কম মনে হলো এবং তারপর দিনও আমি ফেস ওয়াস ব্যবহার করেছি, দেখলাম ত্বক একদম স্বাভাবিক! এরপর পুরো শীত আমি এই লিলি অয়েল কন্ট্রোল ফেস ওয়াস টাই ব্যবহার করেছি মুখ ধোয়ার জন্য এবং আমার মুখের সেই চর পড়া ড্রাই ভাব আর ফিরে আসে নাই। আলহামদুলিল্লাহ!
একটা খুব কমন প্রশ্ন আসতে পারে, রঙ ফর্সা করে?
না, রঙ ফর্সা করে না।
এটা একটা বেশ সুন্দর অভিজ্ঞতা বলা যায়, আমার মনে হয়েছে লিলি ব্র্যান্ডের ফেস ওয়াস গুলো আমাদের দেশে সাধারণ রেঞ্জে চলা মানুষ গুলো র জন্য বাজেটের মধ্যে ভালো মানের ফেস ওয়াস। আমি শুধুমাত্র অয়েল কন্ট্রোল ফেস ওয়াস টাই ব্যবহার করেছি। আরও দুই টা বা তিনটা ভেরিয়েশন আছে। আপনি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে!

