একটা সম্পর্ক:বিশ্বাস, সম্মান আর ভালোবাসা

সম্পর্কে র শুরু বা শেষ কিসে, বলেন তো?
আমার কি মনে হয়, জানেন? বিশ্বাস! আপনি তার কাছে ঠকবেন না। সে আপনাকে ভুল বোঝাবে না। কম কথা বলে, কিন্তু সত্যি কথা বলে। এই বোধ টুকুই যথেষ্ট! একটা মানুষ কে বুঝতে চাওয়ার প্রথম অধ্যায় খুলতে পারে। মাঝখানে যত অধ্যায় আর যত পৃষ্ঠাই যুক্ত হোক না কেন, শেষ অধ্যায় আবার সেই ভরসা তেই ঠেকে। 

সে সময় হয়তো আর বুড়ো নেই বা বুড়ি নেই পাশে। একগুচ্ছ নিজের রক্তের মানুষের ভেতর হঠাৎ ই আপনি ভীষণ রকম একা!!কে দেখবে তখন?  এতো  মানুষের ভেতর হয়তো কোন এক সন্তান বা পুত্র বধূ বা এক নাতি আপনার খুব আপনজন হয়ে অবতার হবে।বা নিজের কেউই না, অন্য কোন মানুষ ই হয়তো আপনার দ্বায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসবে। এই দায়িত্ব র পেছনে থাকে একটা ক্ষীণ আশা, সে আমার অযত্ন করবে না। একটা ছোট্ট আস্থা!……

তাই বিশ্বাসের কদর করুন,  নিজের এবং সঙ্গীর বিশ্বাসের জায়গা নষ্ট হতে দিবেন না। বিশ্বাস টা তৈরি হতে দেওয়া ভীষণ জরুরি? মন না চাইলেও?! 

এই উত্তর টা কিন্তু, আপনার মাঝেই লুকিয়ে আছে। আপনি কি এই নিয়ে দো টানায় আছেন? তাহলে, সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দরকার কি? দেখুন, আপনি যত বড় বাজেট ই হোল্ড করুন না কেন। একটা কথা জানেন তো? বেঈমানির ব্যবসা তেও ইমানদারির সাথে চলতে হয়। মানে basic rules of life সবার জন্য ই সমান। কারো জন্য বিশ্বাস ধরে রাখা যদি খুব কঠিন মনে হয়, তো তাকে এই কথা টাও বুঝিয়ে দিন। যে, আপনি হয়তো খুব লম্বা কোন পরিকল্পনার মধ্যে নেই। আপনার পরিকল্পনা, চলার পথ, চিন্তা ধারা সব কিছুই ভিন্ন পথে চলছে। 

বাবা -মা এর প্রতি আস্থার জায়গা – এই বিষয় নিয়ে বলার কিছু নেই। পৃথিবিতে সুস্থ সুন্দর মনে র মা বাবা রা একজন ছোট্ট মানুষের প্রথম ভরসা,বিশ্বাস এবং আস্থার জায়গা সৃষ্টি করে।  বাচ্চার প্রতিটা হাসি, বেড়ে ওঠা আর ধাপেই সেই বিশ্বাস মিশে থাকে। তবে কিছু জায়গায় অসচেতনতা চলে আসে। সেই বিষয় গুলো খুব গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার। আপনি আপনার বাচ্চার সাথে ভুল করেও মিথ্যা র আশ্রয় নেবেন না। বাহানা দেওয়া, মিথ্যা অজুহাত বা প্রতিশ্রুতি তাকে আহত করে। আমরা সেগুলো আমলে নেই না। কিন্তু, মিথ্যা র আশ্রয় নেওয়া বাচ্চা কিন্তু সেখান থেকেই শিখতে শুরু করছে। তাই সাবধান। আপনি বাচ্চাকে যে রুপে দেখতে চান, সেই ব্যাক্তিত্ব নিজের মাঝে ধারণ করুন। 

বাচ্চার প্রতি বাবা-মা র আস্থার জায়গা – একটা বাচ্চার প্রতি মা বাবা যে আস্থা রাখেন তা পরিণত হয় সময়ের সাথে সাথে।  এটা বোঝার বয়স হতেও বাচ্চাকে পরিণত হতে হয়। ছোট অবস্থায় সে হয়তো আপনার চাওয়া বা ভরসা ভেঙে ফেলতে পারে অনেক বার। হতাশ হবেন না, প্লিজ! ওকে বোঝান, বুঝতে দিন ও কি ভুল করছে। তারপর, তাকে শুধরাতে সময় দিন। এই ধাপ গুলো একটা নির্দিষ্ট বয়সসীমা র মধ্যে ই সম্ভব। এরপর আর হয় না!  

আর আপনার বয়স যদি ১৬+ হয়, তাহলে আপনি এখন যথেষ্ট বুঝদার একজন। এখনি আপনি আপনার নিজের জায়গা টা স্পষ্ট রাখতে সক্ষম। মানে বুঝিয়ে বলছি, আপনার বাবা-মা র জন্য আপনি সর্বোচ্চ কি করবেন? একটা অ্যাচিভমেন্ট, তারপর, তাদের শখ পূরণ, তাদের নিয়ে ঘুরতে যাবেন। তারা যে জায়গায় আপনাকে দেখতে চায়, সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পিছপা হবেন না, এই তো?
তার আগেও আপনার অনেক কাজ আছে। প্রথম যে কাজ, পড়াশোনা ছাড়াও পরিবারের জন্য নিজের একটা দ্বায়িত্ব নিজে থেকে বেছে নিন। হোক সেটা খুব ছোট, যেমন – প্রতিদিনের পেপার টা নিজে কালেক্ট করে টেবিলে রেখে দিন, বা মা যখন ঘুমাচ্ছে তখন ডোরবেল বাজলে দেখার দায়িত্ব নিজে নিয়ে নিন। কোন ভাবে মা এর দিনের বেলা র ১০-১৫ মিনিট এর রেস্ট নিশ্চিত করুন। আরেকটা বিষয়, আপনি এখন নিজে থেকে অনেক নতুন নতুন পথ চিনতে শিখেছেন। বেশির ভাগই বারণ, তাই বলে আপনি বা আপনার সম বয়সী রা জানবেন না, চিনবেন না, তা হয় না। জানবেন, চিনবেন, বুঝবেন এবং ভাববেন। নিজের নিরাপদ সীমা রেখা ছেড়ে বাইরে পা ফেলবেন না। যেখানে বাবা-মা র চোখ পৌঁছায় না, সেখানে নিজেই নিজের খেয়াল রাখুন। এটা কিন্তু বড় হওয়ার প্রথম শর্ত। এতে করে আপনি আপনার বাবা -মা এর আস্থা রাখতে সক্ষম হবেন। 

ভাই-বোনেরা একে অন্যের ভরসার জায়গা -এই সম্পর্ক কোন ভাবেই অবহেলা করা উচিত না। বাবা – মা এর কাছে নির্দিদ্ধায় গিয়ে বসা যায়। তারা যদি কিছু নাও করতে পারেন, তারপর ও তাদের উপস্থিতিই আপনাকে সাহস যোগাবে। বাবা-মা র পর ভাইবোন কেই আপনি মন খুলে কথা বলতে পারবেন। সাংসারিক ঝুট ঝামেলা আর পারিবারিক অস্থিরতা র জন্য এই সম্পর্ক গুলো খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, দূরত্ব চলে আসে। হ্যাঁ, সত্যিই এমন পরিস্থিতি আসে যে ভাই এর জন্য বা বোনের জন্য খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আবার, আপনি বিপদে পড়েছেন কিন্তু, কেউ টাকা দিয়ে আপনাকে সাহায্য করবে না বা করছে না। এই জটিল সাংসারিক সমীকরণ খুব সহজে মিলানো যায় না। তবে, এটাও ঠিক নিজেদের ভেতর জটিলতা আসতে না দিলে জটিলতা আসবে না।

আপনি ঘোরতর বিপদে পড়ে যদি আপনার ভাই বা বোন কে স্মরণ করেন,সে ছুটে না এসে পারবে না। আর কিছু না হোক, অন্তত চোখে দেখতে, একটু পাশে বসতে সে ছুটে আসবেই। সম্পর্ক গুলো কে সব সময় যত্নে রাখা উচিত। এরজন্য দুই টা কাজ করা খুব জরুরি। 

আপনার নিজের দিক থেকে যোগাযোগ রাখা, একটু খোঁজ খবর নেওয়া, কোন সমস্যা হলে আমাকে জানাবি এই আশ্বাস দিয়েন।আপনার ভাই বা বোন কতটুকু খারাপ বা স্বার্থপর তা সরাসরি নিজে যাচাই করুন।  অন্যের কথায় তাকে এতোটা অবিশ্বাস্য করবেন না যে, সম্বোধন করার শক্তি টুকু হারিয়ে ফেলেন। 

জীবন সঙ্গী বা বর্তমান সঙ্গীর প্রতি আস্থা ভাজন হওয়া কি খুব জরুরি বিষয়? এখন অনেকেই সম্পর্কে র বিষয়ে ভীষণ খোলামেলা থাকতে খুব পছন্দ করে। যতদিন মন চাইলো, যতটা সময় মন চাইলো পাশে থকলাম। যখন আর ভালো লাগছে না যে যার মতো আলাদা হয়ে গেলাম। একটা কমিটমেন্টে যেতে অনেকেরই ভীষণ আপত্তি। 

কারও সাথে কমিটমেন্টে থাকা যদি খুব কষ্টের বা বাধাঁ মনে হয়, তো এখানে কারো কিছু বলার নেই। তবে একটা বিষয় কি, এই মন গুলো নিজেরাই নিজেদের ক্লান্ত করছে। জীবনে কোন কিছুই আনলিমিটেড না, সব কিছু র হিসাব আছে, নির্ধারিত সীমা রেখা আছে। এটা বুঝে নিয়ে চলতে পারলে, খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, মন কেও এক সময় বাধতে শিখতে হয়। এজন্য সময়ে র মধ্যেই যদি নিজের জন্য একটা সুন্দর ঘর বানিয়ে  নিতে পারেন, আখেরে আপনি ই সুখী! 

সাংসারিক জীবনে পরিষ্কার বোঝা পড়া থাকার প্রয়োজনীয় তা এক গ্লাস বিশুদ্ধ পানির মতো। আপনি বিশুদ্ধ পানি পান করবেন তো সুস্থ থাকবেন। পানি পরিষ্কার, কিন্তু বিশুদ্ধ নয়। অসুস্থ হয়ে যাবেন। হয়তো নিঃশেষ হয়ে যাবেন।কিছুদিন আগেও মানুষ প্রায়ই বলতো, ভালোবাসা ছাড়া সংসার সম্ভব না। এই ধারণা কিছু টা ভুল, অপরিচিত কাউকে বিয়ে করে সংসার করছেন বা সুখী হয়েছেন, এমন অনেক মানুষ আছে। আবার, ভালোবেসে বিয়ে করে বেশি দিন টিকেনি সংসার। এরপর, পারিবারিক ভাবে বিয়ে করে বেশ ভালো আছেন। এই উদাহরণ গুলো কম না। 

এখনে গুরুত্ব পায়, কার সাথে সংসার বেধেঁছেন? জীবন পার করছেন কার সাথে?সে কি আপনাকে বোঝে? যত্ন করে? আপনার জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক শান্তি র ব্যবস্থা করে? আপনি কি তার একই ভাবে যত্ন নিতে পারেন?  

জীবনের যত উন্নতি র হিসাব ই করুন, রাতে যখন একলা ঘুমাতে যান, জ্বর নিয়ে যখন একলা ঘরে থাকতে হয়, তখন তো মনে হয় বিশ্বস্ত কেউ পাশে থাকুক! সেই পাশে থাকার মানুষ টা যেন হয়, বিশেষ ভাবে আপনার জন্য। এই বিশ্বাস টা প্রাণে ফিরে আসুক! 

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *