ছোট বাচ্চাকে যে যন্ত্রণা গুলো খুব জ্বালায়, তার অন্যতম একটা যন্ত্রণা ডায়পার রাশ । ছোট্ট সোনা মণিটা কিছুই বলতে পারে না। হাত-পা ইচ্ছে মতো নাড়াতেপারেনা, কোথায় কি অসুবিধা কিছুই বলতে পারেনা। শুধু কেঁদে কেঁদে অস্থির হয়ে যায়। বাচ্চারএ কান্না বাবা-মা’য়েরা সহ্য করতেপারেন না। এ জন্য প্রত্যেক বাবা-মা’য়ের উচিত একটা ছোট্ট বাচ্চার পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের জ্ঞান রাখা।কি করলে কি অসুবিধা হয়,তার প্রতিকার কি সে? এ বিষয় গুলোতে ধারণা রাখা। ডায়পার রাশ তেমন একটা জটিল নয়, অথচ বাচ্চাকে অস্থির করে দেয়ার মতো সমস্যা।
Table of Contents
- ডায়পার রাশ কি?
- একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তত অন্তত ডায়পার পরিবর্তন
- প্রাইভেট এরিয়া পরিষ্কার করুন
- কিছুটা সময় খোলামেলা রাখুন
- ক্রীম বা অয়েল এর ব্যবহার
ডায়পার রাশ কি?
এখনকার প্রায় সব বাবা-মা’য়েরাই আমরা বাচ্চাকে ডায়পার পরিয়ে রাখি প্রায় সবসময়। এতেকরে আমাদের মেইনটেন করা সুবিধা হয়। তবে এই টানা ডায়পার পরিয়ে রাখা থেকেই ডায়পার রাশ সৃষ্টি হয় বাচ্চার নরম ত্বকে।ফলে চুলকায়, অস্বস্তি হয়।যা বাচ্চা বলতে পারে না।প্রচুর কান্না-কাটি করে। এছাড়াও আরও একটি সমস্যা দেখা দেয় তা হলো, চামড়া ছড়ে যাওয়া। বাচ্চাদের প্রাইভেট এরিয়া অনেক সেনসেটিভ হয়। একটানা একভাবে ডায়পার এর ভেজা ভাব আরও সেনসেটিভ করে তোলে। ফলে পরিষ্কার করার সময় অথবা আপনা আপনি ছিলে যায় বা ক্ষত সৃষ্টি হয়।
এ বিষয় গুলো থেকে আপনার সোনামণিকে সুরক্ষিত রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। আমিও একজন মা। আমি আমার বাচ্চাকে লালন পালন করতে যেয়ে যা যা শিখেছি তাই এখানে শেয়ার করছি।
১. একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তত অন্তত ডায়পার পরিবর্তন-ডায়পার গুলোর ধারণ ক্ষমতা যদিও লেখা থাকে ১০/১২ ঘন্টা পর্যন্ত। তবে এতোটা সময় এক ডায়পার না রাখাই ভালো। ৪/৫ ঘন্টা অন্তর অন্তর ডায়পার পরিবর্তন করুন।
২. প্রাইভেট এরিয়া পরিষ্কার করুন – প্রতিবার ডায়পার পরিবর্তনের সময় বাচ্চাকে সুন্দর করে পরিষ্কার করুন। বাজারে অনেক রকম ভেজা টিস্যু বা বেবি ওয়াইপ পাওয়া যায়। ভালোমানের বেবি ওয়াইপ ব্যবহার করুন। যেটা আ্যলকোহল ফ্রি এমন কোন টিস্যু বেছে নিন। অথবা খুব নরম পাতলা সুতি কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। কাপড় পরিষ্কার কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে বাচ্চার প্রাইভেট এরিয়া, পা খুব যত্ন নিয়ে পরিষ্কার করুন।এরপর শুকনো করে মুছে ফেলুন।
৩. কিছুটা সময় খোলামেলা রাখুন – বাচ্চাকে ডায়পার পরিবর্তনের মাঝে কিছু সময় খোলা মেলা রাখুন। এতে করে বাচ্চা কিছুটা আরাম পাবে এবং বাচ্চার ত্বক বাতাসের সংস্পর্শে আসবে। ফলে জার্ম বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমে যাবে। বাচ্চারা এসময় বেশ উচ্ছলতা নিয়ে খেলা করে। এ সময় ইউরিনম্যাট বিছিয়ে বাচ্চাকে খেলা করার সুযোগ দিন।
৪. ক্রীম বা অয়েল এর ব্যবহার – অনেক রকম ডায়পার রাশ প্রিভেন্ট ক্রীম পাওয়া যায়। এগুলো সাধারণ ডায়পার পরানোর আগে ব্যবহার করা হয়। রাশ না হলেও প্রতিবার ডায়পার পরানোর আগে এরকম একটা ক্রীম বা বেবি অয়েল বা নারিকেল তেল/ বাচ্চার শরীরে ব্যবহার উপযোগী তেল/ ভ্যাসলিন ব্যবহার করা যেতে পারে। নিয়মিত তেল বা ক্রীম এর ব্যবহার র রাশ এর প্রবণতা কমিয়ে দেয়।
এতো গেল নিয়মিত পরিচর্যার কথা।
এরপরও যদি ডায়পার রাশ দেখা দেয় তখন কি করবেন? আমি নিজে যা করেছি সেই আলোকেই আপনাদের ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছি। যদি কোনভাবে রাশ উঠে যায়, তাহলে যা করবেন –
· প্রথমত বাচ্চাকে ডায়পার ছাড়া রাখতে হবে। বাচ্চাকে ডায়পার ছাড়া বা খোলামেলা রাখুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না রাশ ভালো হয়ে যায়।
· চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একটা ভালো আন্টিসেপটিক ক্রীম ব্যবহার করুন।
· ভিজা স্যাতস্যাতে ভাব থাকার ফলে যদি কুচকি বা প্রাইভেট পার্টে ও আশেপাশের ত্বকে চামড়া নরম হয়ে লাল ভাব দেখা দেয়, তো ঘরোয়া সমাধান হলো খাঁটি নারিকেল তেল। দিনে ২/৩ বার করে সেই জায়গায় তেল দিয়ে দিন। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময়। দেখবেন খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাবে।
এ ছাড়াও ভালো মতো পর্যবেক্ষণ করুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন কেন রাশ উঠলো? ডাক্তার কে বোঝানোর আগে মায়েদের বোঝা জরুরি যে কেন বাচ্চার অসুবিধা হচ্ছে?
খুব গরমে রাশ উঠতে পারে, ঠিক মতো পরিষ্কার করা হচ্ছে না বা অন্য কোন আ্যলার্জিটিক সেনসিটিভিটির জন্য রাশ উঠতে পারে। এ বিষয় গুলো খেয়াল করুন এবং শিশুর যত্ন নিন। তবে অবহেলা করবেন না মোটেও। যদি মনে হয় আপনার আয়ত্তের বাইরে তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে এই বিষয় গুলো এমন কোন জটিল বিষয় নয়, শুধুমাত্র সতর্কতা এবং যত্ন নিলেই দেখবেন হাসিখুশি থাকবে আপনার সোনামণি।
Get Your Baby Diaper : https://rkmri.co/lSTeE5RNpAlS/

