বাচ্চাদের খেলার জায়গা একটা শহরে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা বদলির চাকরি করেন, বিশেষ করে সরকারি চাকরি করেন তারা ভালো জানবেন একটা শহরে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকার পাশাপাশি বাচ্চাদের জন্য খেলার পার্ক কতটা দরকার!?
ছোট্ট সোনামণিরা একটু শক্তপোক্ত হতেই কিন্তু বাবার হাত বা গলা আকড়ে ধরে বাইরে যাবার জন্য। যখনই বুঝবে যে বাবা বা মা বাইরে যাচ্ছে তারা অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে সাথে যাবার জন্য। বাবারা এক রকম অভ্যস্ত হয়ে যায় বাচ্চা কাঁধে নিয়ে বাইরের টুকটাক কাজ সেরে ফেলতে। এই ছোট্ট ছানারা যখন আরেকটু বড় হয়, গুটি গুটি পায়ে হাটতে শেখে, তখন আমরা বাবা-মা’রা খুঁজতে থাকি “কোথায় এক টুকরো মাঠ পাওয়া যায়?” যেখানে বাচ্চা টা একটু তারমত করে এলোপাথাড়ি ছুটে বেড়াবে!
আমরা রাজশাহী শহরে বসবাস করি। এই সুবাদে এই শহরের শিশু পার্ক বা ইনডোর প্লে জোন অথবা বাচ্চাদের জন্য পরিবেশ বান্ধব জায়গা গুলো সম্পর্কে জানি। সেই জায়গা গুলোর লোকেশন এখানে দিয়ে দিচ্ছি-

১. জিয়া পার্ক- বর্তমানে এটাই রাজশাহীর সব থেকে পুরনো শিশু পার্ক। পার্কে বিভিন্ন রকম রাইডের পাশাপাশি ছোট আকারে দুই একটা পিকনিক স্পট আছে। পুরো পার্কটাই ফুলের গাছ আর কিছু পশু পাখির মূর্তি দিয়ে সাজানো। কৃত্রিম লেক আছে। সেখানে বোটিং করা যায়। একটা ট্রেন আছে এই পার্কে। এই ট্রেন পার্কে আসা সব বাচ্চা এবং বড়দের আকর্ষণের কেন্দ্র। এছাড়াও আরও একটা রাইড আছে যেটা ব্রিজের মতো ওপর দিয়ে গেছে। পা-চালিত গাড়ি এই ব্রিজের লাইনের ওপর চালিয়ে ঘুরতে হয়, নাম জানি না তবে দেখেছি। প্রায় প্রতিদিনই স্থানীয় এবং বাইরের অনেক মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। ভেতরে খাবার দোকান ও আছে দুই/একটা।
লোকেশন – জিয়া পার্ক, নওদাপাড়া, রাজশাহী। শহরের যে কোন প্রান্ত থেকে জিয়া পার্ক যাবো বললেই, অটো বা রিক্সা করে চলে আসা যাবে।

২. এ, এইচ,এম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান – এই পার্ক টা মূলত পুরনো চিড়িয়াখানা। আমাদের ছোট বেলার বেড়াতে যাওয়ার জায়গা। তবে, এই সময়ে এসে চিড়িয়াখানার সৌন্দর্য্য ও পরিবেশ দুই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তা আবার পুনরুদ্ধার করে, সংস্কার করে বর্তমান নাম দেওয়া হয়েছে। এটা একটা অনেক বড় জায়গা যেখানে বাচ্চারা খেলার জন্য বেশ ভালো একটা পরিবেশ পাবে। বাগান, লেক, কিছু কিছু জন্তু এখনও রাখা আছে, যেমন- পাখি, হরিণ এরকম। তবে চিড়িয়াখানা বলা যাবে না। বেশ কিছু খেলনা রাইড আছে। এছাড়াও জায়গা টা অনেক বড় বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে গেলেও অনেক টা সময় ওরা ঘোরাফেরা করেই কাটিয়ে দিয়ে পারবে। সাথে একটা নভো থিয়েটারও রয়েছে।
লোকেশন – জায়গার নাম কাজীহাটা। কিন্তু, চিড়িয়াখানা বলেই এখনও পরিচিত।

৩.নোঙর- পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁষে বাচ্চাদের জন্য একটা সুন্দর বিনোদনের জায়গা । নোঙর মূলত একটা রিভার ভিউ রেস্টুরেন্ট। তার সাথে লাগোয়া লম্বা বারান্দার মতো বাচ্চাদের খেলার জায়গা। এখানে বেশ কিছু ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইন এবং হাইটের স্লাইড আছে আর ছোট ছোট মাঠ এবং বাগান। বাচ্চারা ইচ্ছে মতো এখানে ছুটোছুটি করতে পারে যতক্ষণ ইচ্ছা। এর জন্য কোন পেমেন্ট করা লাগে না বা টিকিট ও কাটতে হয় না। শুধুমাত্র পরিষ্কার রাখার জন্য কিছু রুলস মানলেই চলে। রেস্টুরেন্টে বসার ও কোন বাধ্য বাধকতা নেই। আলাদা এন্ট্রি গেট দিয়ে খেলার পার্কে প্রবেশ করতে পারবেন। রাজশাহীর কৃতি সন্তান ক্রিকেটার খালেদ মাসুদ পাইলট এই রেস্টুরেন্ট এবং কিডস জোন এর কর্তৃপক্ষ।
লোকেশন – পদ্মা নদীর ধারে মুক্ত মঞ্চের পাশে।

৪. শেখ রাসেল শিশু পার্ক – একটু ছোট পরিসরে এটাও একটা শিশু পার্ক। এককথায় পার্ক বলতে যা বোঝায় তাই। কিছু যন্ত্রচালিত রাইড আছে, কিছু ফ্রি রাইড আছে, একটা ছোট লেক আছে। বসার সুন্দর সুন্দর কিছু জায়গা আর ছুটোছুটি করার জন্য বেশ কিছু স্পট।
লোকেশন – সিটি গ্যারেজ এর পাশে, ছোট বনগ্রাম, রাজশাহী।
ইনডোর প্লে জোন- ইনডোর প্লে জোনের দিকে রাজশাহী কিছু টা পিছিয়ে। বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট ইনডোর প্লে জোন এর আয়োজন রেখেও শেষ পর্যন্ত বিজনেস ধরে রাখতে পারেনি।
বর্তমানে দুই টা ইনডোর প্লে জোন সচল আছে।

৫. রেইনি পার্ক- এটা সম্ভবত রাজশাহীর প্রথম এবং এখনো জনপ্রিয়তার সাথে চলমান ইনডোর প্লে জোন। একটু ছোট পরিসরে, কিন্তু বেশ কিছু আকর্ষণীয় রাইড আছে। সাথেই আছে রেস্টুরেন্ট। চাইলে বাচ্চাকে প্লে গ্রাউন্ডে দিয়ে রেস্টুরেন্টে বসে সেখান থেকেই সরাসরি দেখতে পারবেন বাচ্চাকে। এই প্লে গ্রাউন্ডে প্রবেশের জন্য এবং রাইড গুলোর জন্য আলাদা আলাদা করে টিকিট কিনতে হয়।
লোকেশন – রেইনি পার্ক, সি এন্ড বি মোড়, রাজশাহী।

৬. নেক্সাস পার্ক– এই পার্ক টা বর্তমানে সব থেকে বড় ইনডোর প্লে জোন রাজশাহীতে। এর সাথেও রেস্টুরেন্ট আছে একই ফ্লোরে, তবে পার্টিশন দিয়ে আলাদা রাখা হয়েছে। এর জায়গা বড়, ফলে বাচ্চার সাথের গার্ডিয়ানদের ভেতরে বসার ব্যবস্থা আছে। এই প্লে জোনে শুধুমাত্র এন্ট্রি টিকিট কিনতে হয়। ভেতরে সব রাইড বাচ্চারা নিজেদের পছন্দ মতো এনজয় করতে পারবে। আলাদা টিকিট এর প্রয়োজন নেই।
এছাড়া রাজশাহীতে সব থেকে বড় বিনোদনের জায়গা হলো পদ্মা নদীর পাড়। সকাল, বিকাল এমনকি সন্ধ্যার পরও বাচ্চা নিয়ে বাবা মা ‘য়েরা নদীর ধারে ঘুরতে যায়। রাস্তা ধরে হেঁটে বেড়ায়। এই শহরে নিরাপত্তা র বিষয়ে সবাই খুব নিশ্চিন্তে থাকে। যদিও জায়গা ভেদে সতর্কতা অবশ্যই জরুরি।
যারা রাজশাহীতে আছেন বা আসতে চান বাচ্চা নিয়ে তাদের জন্য এই জায়গা গুলো কাজে লাগতে পারে।

