ফেসবুকে ৩০+ নারী দের নিয়ে একটা পোস্ট বেশ ঘুরে বেড়াচ্ছিল। পোস্ট টা পড়ে বেশ ভালো লেগেছিল। আমিও এখন ঠিক এই বয়সের কোঠায়। আমার ও নিজের মতো করে লিখতে ইচ্ছে করলো, কেমন পরিবর্তন আসে এই সময় টা-তে?
আমার নিজের ও মনে হয়, এই সময় না মেয়ে না মহিলা। সবাই তো মহিলাই বলে,কিন্তু মন মানতে নারাজ। আর নিজেকে মেয়ে বললে তো কটাক্ষের শেষ থাকবে না। এই রকম দো টানা বিষয় জীবনের কম বেশি অনেক ক্ষেত্রেই চলে এসেছে। যেমন – প্রায়োরিটি বদলে গেছে। কাছের মানুষের পরিবর্তন ঘটেছে। পছন্দ অপছন্দের ওপর গুরুত্ব কমে গেছে। শুধু নিজে ভালো থাকার থেকে আশেপাশে সবাই কে নিয়ে ভালো থাকাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। একটা কবিতা পড়েছিলেন? কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের “ ১৮ বছর বয়স”। এই কবিতায় দুইটা লাইন ছিল-
“১৮ বছর বয়সে নেই ভয়
পদাঘাতে চায় ভাংতে পাথর বাধা,
এ বয়সে কেউ মাথা নোয়াবার নয়-
আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা।“
একটা সময় কিন্তু সত্যিই এমন মনে হতো নিজেকে। মানে কোন কিছুর পরোয়া নেই। কি আর হবে!
এখন কিন্তু পরোয়া হয়, অনেক কিছুরই পরোয়া করে চলতে হয়। রাগ উঠলে গিলে ফেলতে হয়। অভিমান ভুলে যেতে হয়। চোখের জল, কপালের ঘামকে এক করে ফেলতে হয়। দুঃখে মন টা ভেঙে কুঁকড়ে গেলেও, বেশ চওড়া হাসি মুখে সাজিয়ে রাখতে হয়। এতো সব কিছু কেউ শিখিয়ে দেয় না। এই ৩০ বছর বয়স টা শিখিয়ে দেয়।
পরকে আপন, আপনকে তফাতে রেখে বাঁচতে হয়। নিজের ভালো লাগাকে কথায় কথায় যৌক্তিক প্রমাণ করতে হয়। হাজার টা চোখা কথার আড়ালে নিজের ভালো লাগাকে যত্ন করে বাড়তে দিতে হয়।
না না, এটা শুধু সংসারী বলে নয়। It’s an art of living.
ছেলে /মেয়ে সবার জন্যই কিন্তু এসময় জীবনের একটা পরিবর্তন আসে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সন্তানের বাবা-মা। কেউ একটা কেউ হয়তো ২ টা। এই ছানাদের মুখ দেখে আমরা সব ভুলে যাই। ওদের হাসি টাই আমাদের জীবনের একমাত্র আনন্দ।
অল্প কিছু দিন আগেই, এই ৪-৫ বছর আগেও জীবন সঙগী বাছাইয়ে র মাথা ব্যাথায় মনে হতো, দুনিয়াতে এর থেকে বেশি জটিল আর কিছু নেই। এখন মনে হয় এর থেকে বাজে চিন্তা আর দ্বিতীয় টা নেই!! দুঃখিত দুঃখিত রাগ করবেন না, প্লিজ। আসলে এ ভাবনাও ওই বয়সের দোষ। এতো ভালোবাসা দিয়ে করবো টা কি? সম্মান করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় এখন ।পাশাপাশি থেকেও যদি একজন আরেকজনের মূল্যবোধের অবমূল্যায়ন করি, তো ভালোবাসা বলে আর কিছু থাকে না। আর এত্তো এত্তো লাল গোলাপ আর চুড়ি দেওয়া ভালো না বেসেও যদি কেউ বুঝে, যে কখন এক গ্লাস পানি খেতে মন চেয়েছে আর তা পাইনি বলে এগিয়ে দেয়, তার সাথে সারাজীবন কাটানো যায়।
তবে ব্যাপার হলো এই যে এতো কিছু এখন বুঝতে শিখেছি,তাতে লাভ কি? ছোট দের তো আর বলে আর বলে বোঝানো যাবে না।কারণ, ওদের এখন ১৮ বছর বয়স।
এজন্যই হয়তো আমরা এখন একটু ধীর একটু গম্ভীর। সব সময় আর কথা বলতে ভালো লাগে না। তবে বুড়িয়ে যাইনি মোটেই। কিছুটা ধাতস্থ, খানিকটা শক্ত। বেশ একটু পরিণত। সময় কে আর উড়িয়ে দেই না। কাচেঁর বোয়োমে ভরে রাখতে ইচ্ছে করে। কাঁদতে আর কাঁধ লাগে না। একলা নীরবে থকতেই ভালো লাগে।
সব মিলিয়ে এ এক অন্য রকম মাধুর্যময় সময়। অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করে,কিন্তু কাউকে আর আগের মতো পাই না বা নিজেরও কিছু বলার থাকে না যেন। মান অভিমান বা আনন্দ কোন কিছুই আর অতিশয্যে বিলীন করে দেয় না। আসলে সময় তো বয়ে গেছে অনেক টাই আর কিছুটা ছাপ পড়তে শুরু করেছে আরকি!

