বর্ষায় সোনামণি’র যত্ন

আমাদের দেশ ষড়ঋতুর দেশ। মূলত গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত এই  তিন রকম আবহাওয়া থাকে। এর মাঝে মোটামুটি ২ মাস অন্তর অন্তর এক রকম আবহাওয়া’র পরিবর্তন হয়। এই যেমন এখন হুটহাট বৃষ্টি। আবার কখনও গুমোট ধরা গরম। এই আবহাওয়া জ্বর- সর্দি-কাশি’র উপসর্গ বয়ে নিয়ে আসে। তাই নিজের, বাচ্চার এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

আমি মূলত বলতে চাই বাচ্চাদের জন্য কিছু সচেতনতার টিপস –

১.গোসলের- প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময় বাচ্চাকে গোসল দিন। দিনের প্রথম ভাগে ১০/১২ টার মধ্যে হলে খুব ভালো হয়। গোসলের সময় একটু গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। কারণ, আমরা অভ্যস্ত হলেও বাচ্চাদের একটুতেই ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। বর্ষা কালে বৃষ্টি হলেই পানি একটু ঠান্ডা হয়ে যায়। তাই একটু গরম পানি মিশিয়ে গোসল দিলে বাচ্চা আঁতকে উঠবে না এবং বাচ্চার ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা কমে যাবে।

২.শরীর ও চুল শুকনো- খুব ভালো মতো শরীর ও বিশেষ করে চুলের পানি মুছে দিন। একেবারে শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত। বিশেষ করে ভেজা চুল থেকে ঠান্ডা বা সর্দি হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

৩.কোন কাপড় পরাবো?

একেবারে খোলা মেলা না রেখে পাতলা কাপড় পরিয়ে রাখা ভালো। এখন রেডিমেড অনেক নরম সুন্দর সুন্দর ফেব্রিকের বেবি ড্রেস পাওয়া যায়। পিওর কটন গুলো সব সময় বাচ্চার জন্য আরামদায়ক। আমি ব্যক্তিগত ভাবে একদম দেশি সুতি কাপড়ে বানানো জামা গুলো বেশি পছন্দ করি বাচ্চার জন্য। কারণ, উন্নত মানের ভয়েল কাপড় গুলো পরলে অস্বস্তিকর গরম লাগে না। আবার ঘেমে গেলেও, ঘাম শরীরে বসে যায় না৷ আমার কাছে মনে হয়, আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী সুতি ভয়েল কাপড় খুব উপযোগী। আমার বাচ্চাকে তাই সুতি কাপড়ের জামা বেশি পরাই। এটা অবশ্য একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত।

৪.ত্বকে সংক্রামণ: বর্ষা কালে আরেকটা সতর্কতার বিষয় হলো সংক্রমণ। এসময় স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার জন্য নানা রকম জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন রকম পোকামাকড় এর উপদ্রব দেখা দেয়। আবার অপরিষ্কার কাপড় থেকেও হতে পারে বাচ্চার ত্বকে জীবাণুর সংক্রমণ। এর সমাধান হিসেবে বাচ্চার বিছানা এবং কাপড় সবসময় পরিষ্কার করে ধুয়ে, ভালো করে শুকিয়ে নিবেন। প্রয়োজনে আয়রন করে নিতে পারেন, এতে করে জার্ম মরে যায়। বাচ্চার খেলনা, কাপড় এবং খেলার জায়গা সব সময় পরিষ্কার রাখুন। এসময় রোদ কম থাকে, তারপর ও ঘরে যেন আলো বাতাস চলাচল করে, সে বিষয় খেয়াল রাখুন।

যদি ত্বকে কোন রকম সংক্রমণ দেখা যায়, তো সেই জায়গায় বেশি হাত দেবেন না এবং চিকিৎসক এর পরামর্শ ছাড়া নিজের অভিজ্ঞতা যাচাই এর চেষ্টা না করাই ভালো। না জেনে কোন ক্যামিকেল,মেডিসিন,  তেল, সাবান, লোশন কিছুই ব্যবহার করা ঠিক না।

৫.তেলের ব্যবহার- গোসল করানোর আগে বাচ্চাকে তেল ম্যাসাজ করেন অনেকেই। সেটা তে কোন অসুবিধা নেই, বরং এই বডি ম্যাসাজ বাচ্চার জন্য উপকারি। তবে চুলে বা মাথায় তেল দেয়ার ব্যাপারে একটু সতর্ক হতে পারেন। কারণ, যে সব বাচ্চার ঠান্ডায় এলার্জি আছে বা একটুতেই ঠান্ডা লাগে তাদের কিন্তু চুলে তেল দেওয়াতেও সর্দি লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৬.মশার উপদ্রব- এই মৌসুমেই মশা বেড়ে যায়। ডেংগু, ম্যালেরিয়া এবং পানি বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। তাই নিজ নিজ সচেতনতা ও সতর্কতা বাড়িয়ে নিবেন ভালো থাকার জন্য।

৭. জরুরি মেডিসিন- জরুরি কিছু মেডিসিন সব সময় হাতের কাছে রাখলে ভালো। কারণ, বর্ষা কালে আবহাওয়া বদলে যায় যে কোন সময়। রাত বিরাতে প্রয়োজন পড়তে পারে বাচ্চার জন্য এরকম যে কোন প্রয়োজনীয় জিনিস মজুত রাখার চেষ্টা করুন।

আমরা ভালো থাকার চেষ্টা করতে পারি।ভালো রাখার মালিক শুধুমাত্র আল্লাহ। বাচ্চার ও পরিবার এবং দেশের সকল মানুষকে আল্লাহ ভালো রাখুন ও সুস্থ রাখুন এই দোয়া সকল মায়ের। পাশাপাশি আমরা আমাদের জায়গা থেকে সোনামণি কে সব সময় যত্নে রাখার চেষ্টা করি, যেন আমাদের  অজ্ঞতায় তাদের কষ্ট পেতে না হয়।

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *