শিশু মানুষ করা কেবল খাবার, পোশাক আর স্কুলে পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের মন, আত্মবিশ্বাস ও শৃঙ্খলার বিকাশেও বাবা-মায়ের সঠিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য প্রয়োজন আদর ও শাসনের সঠিক সমন্বয়। শুধু একটিকে প্রাধান্য দিলে বাচ্চার মানসিক গঠন অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।বর্তমানে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাচ্চাদের মধ্যো আচারন ও বিকাশ গত পার্থক দেখা দিয়েছে ফলে অতীতের মা বাবা যে ভাবে বাচ্চাদের মানুষ করত তা আর কাজে দিচ্ছেনা যা খুবি তিতা সত্য ,তাই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে মা-বাবা কে শিখতে হবে স্মার্ট প্যারেন্টিং যাতে বাচ্চার আচারন বা তাদের চাহিদার সাথে মানিয়ে তাদের বিকাশকে আর পজটিভ ও ব্যালেন্সড করতে পারেন।
আদরের প্রভাব
১. আত্মবিশ্বাস গঠনে সহায়ক
আদর, স্নেহ ও সহানুভূতি শিশুর মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। সে বুঝতে শেখে, তার কথার মূল্য আছে, তার অনুভূতিকে শ্রদ্ধা করা হয়।।
২. সম্পর্ক উন্নয়ন
আদর বাচ্চার সাথে মা-বাবার সম্পর্ককে দৃঢ় করে তোলে।তাদের কে বন্ধু ভাবতে শিখে ফলে, তারা সহজেই খোলামেলা কথা বলতে পারে, নিজের ভুল স্বীকার করতে শেখে।এটা মা-বাবার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া যে বাচ্চা তাদেরকে বন্ধু ভাবছে।
৩. ইতিবাচক মনোভাব
যেসব বাচ্চারা ভালোবাসা ও যত্ন পায়, তারা সাধারণত অন্যদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দয়ালু হয়। তারা নেতিবাচক আচরণ কম প্রদর্শন করে।
শাসনের গুরুত্ব
১. শৃঙ্খলা ও নিয়ম শিক্ষা
শাসনের মাধ্যমে শিশুকে জীবনের নিয়ম-কানুন, সীমা ও শৃঙ্খলা শেখানো হয়। এতে করে তারা দায়িত্ববান হতে শেখে।
২. মূল্যবোধ গঠন
যেখানে প্রয়োজন সেখানে না বলা শিখানো, ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সময়মতো ‘না’ বলার মাধ্যমে শিশু বুঝে নেয়—সব কিছু তার ইচ্ছেমতো হয় না।
৩. ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
সঠিকভাবে পরিচালিত শাসন শিশুদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে, যেখানে নিয়ম, শৃঙ্খলা ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আবশ্যক।
শাস্তি নয়, সচেতন শাসন
শাস্তির মাধ্যমে নয়—বরং বোঝানোর মাধ্যমে শিশুকে শেখানো উচিত। কঠোরতা শিশুর মধ্যে ভয়, বিদ্রোহ এবং আত্মগোপনের মানসিকতা সৃষ্টি করতে পারে। বরং সময়মতো বোঝানো, খারাপ আচরণে “টাইম-আউট” পদ্ধতি ব্যবহার করা এবং ভালো কাজের প্রশংসা করা—এই পদ্ধতিই শিশুর জন্য কার্যকর।
আদর ও শাসনের ভারসাম্য কীভাবে রাখবেন?
১. নিয়ম স্পষ্ট করুন: কী করা যাবে, আর কী নয়—এই বিষয়ে ঘোলাটে বক্তব্য নয়, স্পষ্ট কথা বলুন।
২. আচরণের কারণে প্রতিক্রিয়া দিন: শিশুর কাজের ওপর ভিত্তি করে তার প্রশংসা বা সংশোধন করুন।
৩. নিজেই আদর্শ হোন: আপনার আচরণ থেকেই শিশু শেখে। আপনি যদি চিৎকার করেন, শিশুও তা শিখবে।
৪. সময় দিন: শিশুকে সময় দেওয়া, তার সঙ্গে খেলাধুলা করা, গল্প বলা—সবকিছুই তার মানসিক গঠনকে সমৃদ্ধ করে।
ধর্মিয় দৃষ্টিভঙ্গি
সব ধর্মে শিশুদের সাথে সহানুভূতিপূর্ণ আচরণের উপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) শিশুকে আদর করতেন, তাদের ভুল হলে নরমভাবে বুঝিয়ে দিতেন। কোনোদিন তিনি শিশুকে মারেননি বা চিৎকার করেননি। তাই ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিও বলে—শাসন নয়, শিক্ষা দিন, তিরস্কার নয়, সহমর্মিতা দিন।
সুতরাং,আদর আর শাসন—এ দুটি যেন একে অন্যের পরিপূরক। অতিরিক্ত আদর যেমন শিশুদের অসচেতন করে তোলে, তেমনি অতিরিক্ত শাসন তাদের মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সন্তানের মধ্যে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন পজিটিভ প্যারেন্টিং, যেখানে আদর ও শাসন চলে হাতে-হাতে।

