বাবা-মায়ের ঝগড়ার প্রভাব শিশুর উপরঃ এক নিরব মানসিক ক্ষতির গল্প

শিশু যখন জন্মায়, সে কিছুই জানে না—জানে শুধু ভালোবাসা আর নিরাপত্তার ভাষা। বাবা-মা তার জন্য সবচেয়ে বড় আশ্রয়। কিন্তু সেই আশ্রয়ের ভেতরেই যদি শুরু হয় দ্বন্দ্ব, তর্ক কিংবা ঝগড়া—তবে সেটা শিশুর কোমল মনোজগতে রেখে যায় গভীর ছাপ। অনেক সময় সে ছাপ হয় এমনই নীরব, যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে শিশুর আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্থিতি এবং আচরণে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।

 ঝগড়া মানেই শব্দ নয়, শিশুর মনে আঘাত

বাবা-মায়ের উচ্চস্বরে তর্ক, একে অপরকে দোষারোপ, কিংবা ঘরের মধ্যে তৈরি হওয়া মানসিক টানাপোড়েন শিশুর ওপর প্রচণ্ড প্রভাব ফেলে  যদিও তা সরাসরি তার সামনে না হয়।আপনি ভাবছেন, “ও কিছু বুঝছে না”বা “এইগুলা কোন ব্যাপার না” —এটা আসলে বড় ভুল ধারণা শিশুরা পরিবেশ বোঝে, অনুভব করে, এবং তা থেকে নিজের মতো  মানে দাঁড় করায়।  ।মা বাবা তাদের এই দুনিয়াতে নিয়ে আসেন তাই তাদের দায়িত্ব যে কোন পরিস্থিতিতে তাদের পুর্ন নিরাপত্তা দেওয়া ও সুস্থ পারিবেশ দেওয়া বেড়ে উঠার জন্য।

প্রভাবগুলো কেমন হতে পারে?

  • ভয়ের অনুভব: শিশু অস্থির হয়ে পড়ে, কারণ সে জানে না কী ঘটছে, কিংবা এটা থামবে কিনা।
  • আচরণগত সমস্যা: অনেক শিশু জেদি বা অতিরিক্ত চুপচাপ হয়ে যায়।
  • শিক্ষাগত ক্ষতি: মনোযোগ কমে যায়, শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
  • ভবিষ্যতের সম্পর্কের উপর প্রভাব: শিশুটি শেখে ভুলভাবে সম্পর্ক সামলাতে, যার প্রভাব পড়ে তার বড় হয়ে ওঠার পরেও।
  • নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ফলে শিশু মা বাবার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে।

 আপনি যা করতে পারেন

  • ঝগড়াকে সীমিত রাখুন—বিশেষ করে শিশুর সামনে নয়।
  • মতভেদ হলেও তা শালীনভাবে আলোচনা করুন।
  • শিশুকে কখোন বুঝতে দিবেননা আপনাদের মধ্যো কি চলছে তার সামনে দুজনাই নরমাল আচারণ করুন।
  • কোন তর্ক বা ঝগা কিংবা কোন আলোচনা হলে অন্য রুমে বা শিশুকে অন্যরুমে পাঠান।
  • শিশুকে আশ্বস্ত করুন—সে ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত নয়।
  • প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা মানসিক সহায়তা নিন।

ভালোবাসা হোক শিশুর শেখার প্রথম পাঠ

একটি শিশু শেখে দেখে, শেখে শুনে। যদি সে দেখতে পায় বাবা-মা কীভাবে পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসার সাথে সমস্যার সমাধান করেন, তবে তার শেখা হবে শান্তির। আর যদি দেখে তীব্র বাকযুদ্ধ, অসম্মান, কিংবা বিচ্ছিন্নতা—তবে সেই ছায়া সে বয়ে বেড়াবে সারা জীবন।

আজই ভাবুন—আপনার সন্তান আপনাকে দেখে কী শিখছে?

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *