প্রাকৃতিক কিছু ময়েশ্চারাইজার নিয়ে আজকে কথা বলবো। আমরা ময়েশ্চারাইজার এর ব্যবহার বলতে কোল্ড ক্রীম, পেট্রোলিয়াম জেলী, লোশন এসবের ওপরেই বেশি অভ্যস্ত। এই জিনিস গুলো কেমিক্যাল এরই আরেক রূপ এবং পরিপূর্ণ যত্ন দিতে পারে না।
যাদের স্কীন সেনসেটিভ , খুব বেশি রুক্ষ , কেমিক্যাল প্রোডাক্ট থেকে ভালো উপকার পাচ্ছেন না, তারা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
প্রথমেই যে প্রশ্ন মনে আসবে, “প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার কোন গুলো?”
নারিকেল তেল, তিলের তেল, বাদামের তেল, অলিভ ওয়েল, সূর্যমূখীর তেল, অ্যালোভেরা জেল ইত্যাদি।
নারিকেল তেল – চুলের পাশাপাশি ত্বকের জন্যও অত্যন্ত উপকারি তেল নারিকেল তেল। শীতকালেও ত্বকের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে এই তেল ব্যবহার করতে পারবেন এবং ত্বককে যথেষ্ট নরম ও সুন্দর রাখতে পারে এই তেল।
অনেকেই একটু বিরক্ত হতে পারেন এই ভেবে, যে এই তেল তো জমে যায়। তাহলে ব্যবহার করবো কিভাবে? তেল জমে থাকলেও ব্যবহার করতে পারবেন, যদি অভ্যস্ত হতে পারেন। শীতপ্রধান দেশ, যেখানে সব সময় বরফ জমে থাকে, সেই সব দেশেও এক্সট্রা ভার্জিন নারিকেল তেল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ত্বকের জন্য উপকারি কোন এক ফুল তেলের সাথে গরম করে ফুলের কষ তেলের মধ্যে যখন চলে আসে, সেই তেল মুখে ও হাত-পায়ে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করে। আপনিও যদি নারিকেল তেল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করতে চান, তবে এক্সট্রা ভার্জিন তেল বেছে নিবেন, অথবা যা ত্বকের জন্য ব্যবহার উপযোগী এমন তেল।
তিলের তেল- এই তেলওময়েশ্চারাইজার হিসেবে বেশ কার্যকর। চুলের জন্য কতটা উপকারি তা জানি না, তবে ত্বকের জন্য যথেষ্ট উপকারি।
তিলের তেল বাজারে বা সুপার শপ গুলোতে পাওয়া যায়। বেশ কিছু ব্র্যান্ড সেশামি তেল বা তিলের তেল বাজারজাত করে। ব্র্যান্ড ছাড়া সাধারণ তেল নিলে তা খাঁটি কিনা বা ত্বকে ব্যবহার উপযোগী কি না, তা যাচাই করে নেবেন।
বাদামের তেল – বাদামের তেল অন্যতম একটা উন্নতমানে ময়েশ্চারাইজার। এই তেল ব্যবহারে ত্বক খুব সুন্দর থাকে, উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত দাগ গুলো কমে যায়। খুব গভীর দাগ না, তবে হালকা দাগ গুলো প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়।
চীনা বাদাম এবং কাঠ বাদাম দুই রকম বাদামের তেলই ত্বকের জন্য উপকারি। তবে কাঠ বাদাম তুলনামূলক বেশি ভালো কাজ দেয়। বাদামের তেলের দাম একটু বেশি।
এছাড়াও অলিভ ওয়েল তো খুবই পরিচিত একটি তেল তবে এই তেল মুখে ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা সুবিধাজনক এ বিশেষ আমি নিশ্চিত না।
আরও আছে ল্যাভেন্ডার ওয়েল, গ্রীণ ট্রি টি ওয়েল, শীয়া বাটার ইত্যাদি। তবে এই ময়েশ্চারাইজার গুলো বাজারে সব সময় পাওয়া যায় না এবং মান ও দামের ব্যাপারেও কিছু প্রশ্ন থাকে। নিজে যাচাই বাছাই করে ভালো মানের পছন্দের তেল কিনতে পারলে সব সময় উপকৃত হবেন।
ফেস মাস্ক: যাদের ত্বক অতিরিক্ত রুক্ষ, তারা দুধ এবং মধু ব্যবহার করতে পারেন। ফেস মাস্ক হিসেবে।
• দুধের স্বর হাতে চটকে নিয়ে মাস্ক হিসেবে মুখে, হাতে পায়ে লাগিয়ে ১০/১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
• চাইলে এর সাথে এক চিমটি হলুদ গুড়া মিশিয়ে নিতে পারেন, এতে ত্বকের মৃতকোষ উঠে যায়।
• দুধ, গমের আটা বা ময়দা, গোলাপ জলের ফেস প্যাক ও ত্বক ময়েশ্চারাইজার করে।
• মধু ও একই ভাবে ফেস প্যাকের সাথ ব্যবহার করতে পারেন।
• শুধু মধুও ত্বকে মেখে ১০/১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন বা গোসলের আগে মেখে গোসল করে ফেলুন।
এতে করে ত্বকের নমনীয়তা ও উজ্জ্বলতা বেড়ে যাবে। এমনিতেই অনেক প্রাণবন্ত দেখাবে আপনাকে।
অ্যালোভেরা – বাড়িতে যদি অ্যালোভেরা গাছ থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই কাজে লাগান। অ্যালোভেরা অন্যতম একটা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার । অ্যালোভেরা পাতা কেটে সরাসরি যে জেল পাওয়া যায়, তা যদি প্যাকের মত মেখে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলেন, তা আপনার ত্বকের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী যত্ন হতে পারে ।ময়েশ্চারাইজেশন সহ আরও বয়সের ছাপ কমানো, ব্রণ বা ফাঙ্গাল অ্যাটাক থেকে সুরক্ষিত রাখে।
অ্যালোভেরা জেল- অনেকেই বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারেন বা কন্টেইনারে যা কিনতে পাওয়া যায়, তা এক রকম লাইট ময়েশ্চারাইজার। শীতের শুরুতে বা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ব্যবহার উপযোগী লাইট ময়েশ্চারাইজার এই অ্যালোভেরা জেল
হোম রেডিমি- ১ চা চামচ অ্যালোভেরা জেল এর সাথে, ১/২ চা চামচ নারিকেল তেল বা গ্লিসারিন, প্রয়োজন মতো ২/১ টা ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে নিয়ে একটা কন্টেইনারে সংরক্ষণ করুন। এটা ময়েশ্চারাইজার ক্রীমের মতো ব্যবহার করতে পারবেন মুখে এবং শরীরে।
ত্বকের যত্নে ঘরোয়া উপাদান বা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে চাইলে আশা করছি এই তথ্য গুলো আপনার কাজে আসবে। প্রাকৃতিক উপাদান সব সময় নিরাপদ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখে। তাই ত্বক এবং নিজের যত্নে সচেতন হোন।

