বাচ্চা হওয়ার আগে সব বাবা-মা এবং বাচ্চার নানি,দাদিদের এই চিন্তার সম্মুখীন হতে হয়। বাচ্চার জন্য কি কি লাগবে? অভিজ্ঞরা জানেন, যারা প্রথম সন্তানের জন্ম দিতে যাচ্ছেন, তারা জানেন না। তবে ধারণা থেকেই বের করে নিতে পারেন। আজকে তাদের জন্যই মূলত লেখাটা সাজিয়েছ। যেন, সন্তানের জন্মের আগে অতি প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো হাতের কাছে প্রস্তুত আছে কি না, তা নিজেই একবার দেখে নিতে পারেন।
নিমা: নরম সুতি কাপড়ের নিমা। এর কোন বিকল্প নেই। একদম পিওর নরম সুতি কাপড়ের হওয়া চাই। আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী সুতি নরম কাপডের নিমা সব সময়ের জন্যই উপযোগী।
শীতের শুরুতে অর্থ্যাৎ এই সময়ে যাদের সন্তান জন্ম নেবেন, তাদের গরম কাপড় কিনে রেডি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ভালো মানের কিন্টের বেবি রম্পার, ফুল বডি রম্পার গুলো ভালো সাপোর্ট দেবে। এছাড়াও কিছু ফুলন্সলিভ জামা ও পাজামা প্রয়োজন। যদি নরম ফ্লানেল কাপড় দিয়ে কিছু জামা কাপড় বানিয়ে নেন,সেটাও খুব ভালো হবে।
কাপড়ের ডিজাইন কেমন হবে?
বাচ্চার কাপড় যদি ঘরে বানিয়ে নেন, তাহলে ডিজাইন হতে হবে খুব আরামদায়ক। যা সহজে খোলা এবং পরানো যায় বাচ্চাকে। এক্ষেত্রে বুক ফারা বা শার্টের মতো ডিজাইন গুলো বেশি প্রাধান্য পায়।
নরম কাপড়ের টুকরো বা বেবি স্যাডল: বাচ্চাকে জড়িয়ে নেয়ার জন্য এক টুকরো নরম কাপড় খুব জরুরি। বেবি স্যাডল বলে যেটাকে। তবে বাজারে কিনতে গেলে কাপড়ের মান ভালো ভাবে যাচাই করে নিবেন। অবশ্যই যেন ভালো মানের কাপড় এবং বাচ্চার জন্য আরামদায়ক হয়। একটু শীত ভাব থাকলে বেবি স্যাডল ব্ল্যানকেট গুলো নিতে পারেন। আর যদি গরমের সময় হয় তাহলে সুতি কাপড়। চাইলে বাড়িতে ও সুন্দর করে বানিয়ে নিতে পারেন।
এখানে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই, কেনা স্যাডেল গুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আরামদায়ক নয়। আবহাওয়া অনুযায়ী বাচ্চার জন্য আরামদায়ক ও উপযোগী কাপড় দিয়ে বাড়িতে স্যাডল বানিয়ে নিলে বেশি সুবিধা পাবেন।
বেবি ডায়পার: বেবি ডায়পার অন্যতম একটা প্রয়োজনীয় জিনিস। বাচ্চার ব্যাগে নিউবর্ণ বা জিরো সাইজের এক প্যাকেট ডায়পার রাখতে ভুলবেন না। অনেকেই দ্বিমত পোষণ করবেন, কিন্তু বাচ্চাকে শুকনো, পরিচ্ছন্ন ও আরামে রাখার জন্য ডায়পার এর অন্য কোন বিকল্প নেই।
এই বিষয় টা বাচ্চার দাদি – নানীদের থেকে বাবা মা রা ভালো বুঝবেন। তবে ডায়পার কিভাবে ব্যবহার করতে হয়? কোন ডায়পার ভালো? কতক্ষণ পর পর পরিবর্তন করবেন? এই বিষয় গুলো নিজেরা সার্চ করে জেনে নিবেন।
নরম কাপড়ের পাতলা কাঁথা বা দুই স্তর বিশিষ্ট চওড়া রুমাল : ডায়পার ব্যবহার করলেও পাতলা নরম কাঁথার প্রয়োজনীয়তা আছে। সব সময় বাচ্চাকে ডায়পার পরানোর অনুভূতি বাচ্চার জন্য আরামদায়ক নয়। নিজেকে এই জায়গায় কল্পনা করুন, সব সময় টাইপ একটা কিছু পড়ে আছেন। ভিজে গেলে বুঝতেও পারছেন। কিছু টা ভারি হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সব সময় থাকা বাচ্চার জন্য মোটেই সর্বোচ্চ আরাম দায়ক না। ডায়পার চেঞ্জ করার মাঝে ১/২ ঘন্টা বিরতি দিন। বা দিনের কোন একটা সময়, বিশেষ করে গোসলে র আগে তেল মালিশ করে দিয়ে কিছুটা সময় খেলতে দিন। এই সময় ওটার প্রুফ বেড কভার বা ইউরিন ম্যাট এর ওপর এই পাতলা নরম কাথা বিছিয়ে বাচ্চাকে রাখতে পারবেন।
বাচ্চার মালিশের তেল: বাচ্চাকে মালিশ করার জন্য একটা ভালো মানের বেবি ওয়েল নিতে পারেন। এক্ষেত্রে যাদের বাচ্চা আছে তাদের পরামর্শ নিতে পারেন। বাজারে যেগুলো পাওয়া যায়, জনসন, প্যারাসুট বেবি ওয়েল বা মেরিল এগুলো অনেকেই ব্যবহার করছেন।
আমি নিজে আমার বাচ্চার জন্য ব্যবহার করে ছিলাম নারিকেল তেল, খাঁটি নারিকেল তেল যা খাওয়া যায়। এখনও ব্যবহার করি। তবে শীতকালে ব্যবহার করি বাদামের তেল। অনেকেই সূর্যমুখীর তেল, অলিভ ওয়েল ইত্যাদি ব্যবহার করেন। এটা আসলে যার যা পছন্দ।
বেবি ওয়াশ : বাচ্চার গোসলে র জন্য বেবি ওয়াশ জরুরি। প্রথম গোসলে না হোক, প্রথম সপ্তাহ থেকেই আপনি বেবি ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন বাচ্চার গোসলে। চাইলে বেবি শ্যাম্পু ও বেবি ওয়াশ আলাদা আলাদা করে ব্যবহার করতে পারেন। আবার, টপ টু টোও ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন। আমি টপ টু টোও নিয়েছিলাম। কিনে আনার পর প্রথমে নিজের মুখে দিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছিলাম যে, চোখে মুখে ধরে কি না?
বাচ্চার জন্য নরম রুমাল : বাচ্চারা খাওয়ার পর মুখ মুছে দেওয়ার জন্য একদম শুরু থেকেই নরম রুমালের প্রয়োজন পড়ে। এজন্য কিছু নরম কাপড় দিয়ে রুমাল বানিয়ে নিতে পারেন বা কিনেও নিতে পারেন।
প্রাথমিক ভাবে এই জিনিস গুলো খুব দরকার। এই জিনিস গুলো একটা ব্যাগে গুছিয়ে রেডি রাখুন বাচ্চা হওয়ার ডেট এর প্রায় ১৫-২০ দিন আগে। কারণ, ব্যাথা কিন্তু ১০-১৫ দিন আগেও উঠতে পারে। তাই সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাখুন। সে সময় যারা কাছে থাকবেন, তাদের বলে রাখুন।
এরপর ধারাবাহিক ভাবে আরও অনেক কিছুর প্রয়োজন পড়বে। তবে এগুলো দিয়েই সাধারণত শুরু। এরপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখার কথা বলবো –
- গায়ে রোদ দেবেন- একদম সকালে যখন রোদ উঠে, সেই রোদ ১০-১৫ নবজাতকের জন্য খুব জরুরি। একদম জন্মের পর থেকেই।
- বাচ্চার স্বাভাবিক আচরণ গুলো খেয়াল করুন- যেমন মাঝে মাঝে কাঁদবে, খাবার খুজবে, চোখ মেলবে। লম্বা সময় কান্না কাটি না করে শুধু ঘুমালে তা কিন্তু ভালো নয়।
- প্রথম ২৪ ঘন্টা – বাচ্চার প্রথম ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চা হাগু-হিসু- হাঁচি হলো কি না খেয়াল করবেন। এসব কিছু ২৪ ঘন্টার মধ্যে হলে খুব ভালো। না হলে শিশু ডাক্তার কে জানাবেন।
বাচ্চা জন্মানোর পর অনেক আদর, যত্ন এবং আবেগের সাথে প্রয়োজন সতর্কতা ও সচেতনতা। আমি বলবো একজন মা কে বাচ্চার বিষয়ে অনেক টা আগ বাড়িয়ে নিজে থেকে জেনে নেওয়া উচিত সব বিষয়ে।সব মা এবং বাচ্চার সুস্থতা কামনা করছি।আমার অভিজ্ঞতা গুলোও আরও অন্যান্য লেখার মাধ্যমে তুলে ধরবো।
Happy Motherhood!

