শীতে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে কী করবেন ??

শীতের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে সাথে সাথে অ্যাজমা রোগীদের চিন্তা বেড়ে গেছে।বছরের এই সময়টুক অ্যাজমা রোগীদের জন্য অনেক কষ্টের অনান্য সময়ের তুলনায় এই সময় রোগের প্রকোপ বেরে যায়।হাঁপানি বা অ্যাজমা একটি মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক ব্যাধি। অ্যাজমা বা হাঁপানি পুরপুরি  ভালো হয়না কিন্তু নিয়ন্ত্রনে রাখতে হয় তাহলে অনেক দিন ভালো থাকা যায়।কিন্তু শীতে ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস,ধুলাবালি ও ধোঁয়ার পরিমাণ বেড়ে যায় এবং আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন এর ফলে শ্বাসতন্ত্র সংকুচিত হয়ে অ্যাজমা বেড়ে যায়।তাই শীত আসলে রোগীদের নিতে হবে আগাম প্রস্তুতি এবং সাবধানে থাকতে হবে।

শীতে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?

শীতে ঠান্ডা বাতাস থেকে দূরে থাকতে হবে।এই সময় রোগীরা বেশি আক্রান্ত হন।শীতের পর্যাপ্ত পোশাক পরুন হাত ,পা ডেকে রাখুন বিশেষ করে বুক এবং মুখ যাতে ঠান্ডা বাতাস না লাগে।বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান করুন যাতে ধুলাবালি,বাতাস ও ফুলের রেণু নাকে না প্রবেশ করে।

যারা ইনহেলার ব্যাবহার করেন তারা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে করে ইনহেলার এর পর্যাপ্ত সরবারহ থাকে।শীতে বৈরী আবহাওয়া সৃষ্টি হয় ফলে অনেক সময় ফার্মেসি বন্ধ থাকে  বা বাইরে যাওয়ার পরিবেশ থাকে না ,তাই একটী ইনহেলার এক্সট্রা সাথে রাখুন।বাইরে বা ভ্রমণে যাওয়ার সময় ইনহেলার সঙ্গে রাখুন সবসময়।

ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ হাঁপানির লক্ষণগুলিকে আরও খারাপ করতে পারে। ফ্লু টিকা নেওয়া অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে এবং হাঁপানি বৃদ্ধির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।তাই শীতের শুরুতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টিকা নিন।

যেইসব জিনিসে আপনার হাঁপানি বা অ্যাজমা বেড়ে যায় সেগুল থেকে দূরে থাকুন যেমনঃ ধোঁয়া,  পারফিউম এবং ধুলো,ফুলের রেনু ,পশু পাখির পশম,এলার্জিক খাবার,এই ট্রিগারগুলি এড়াতে পারলে হাঁপানির উপসর্গগুলি প্রতিরোধ সহজে  করতে পারেন।ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

নিয়মিত ব্যায়াম ফুসফুসের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং হাঁপানির উপসর্গ কমাতে সাহায্য করতে পারে। শীতের এই সময়ে প্রতিদিন অল্প কিছু সময় হলেও ব্যায়াম করুন।এতে হাঁপানি নিয়ন্ত্রনে থাকবে।

নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পানি পান করুন।এবং ক্যাফেইনমুক্ত চা\কপি পান করুন যা আপনার শরীরকে গরম রাখে।বেশি শীতে কুসুম গরম পানি পান করুন এবং ঠান্ডা পানি পান করবেন না এতে কাশি হতে পারে।

শীতে ঘড়/বাড়িতে অনেক ধুলা ময়লা জমে তাই নিয়মিত ঘড় বাড়ি পরিষ্কার রাখুন।কাঁথা,বালিশ,বিছানাপত্র,ঘরের কার্পেট ম্যাট ঘন ঘন রোদে শুকাতে দিন এতে জিবানু বা ধুলাবালি থাকলে চলে যাবে এতে শ্বাসকষ্ট বা কাশি হবে না।

অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগিরা শীতের শুরুতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন যাতে শীতে অ্যাজমা মোকাবেলা করা যায় এবং পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ খান।রোগিকে অবশ্যই সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন থাকতে হবে।

সর্বোপরি অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে উপরক্ত নির্দেশনা মেনে চলুন এবং নিজের সাস্থ্য সর্ম্পকে সচেতন হন।অ্যাজমা তীব্র হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *