বকাঝকা না করেও আপনি সন্তানকে করতে পারেন শাসন

বাচ্চাদের রাগ বা জিদ স্বাভাবিক বিষয়,বাচ্চারা বড় হওয়ার সাথে তাদের মানসিক বিকাশে  এর ফলে তাদের আচারন ও স্বভাবে বিভিন্ন পরির্বতন লক্ষ করা যায়।ফলে বিভিন্ন জিনিসের জন্য তারা অতিরিক্ত রাগ বা জিদ প্রকাশ করে,আসলে তারা উপলব্ধি করতে পারে না তারা ঠিক করছে না ভুল করছে।তাদের রাগ বা জিদ এর কারনে মা বাবারা অনেক চিন্তায় থাকেন এই কারনে বাচ্চাদের অনেক অন্যয় আবদার মেনে নিতে হয়।সবসময় বাচ্চাদের ভুল আবদার বা চাওয়া গুলকে মেনে নেওয়া ঠিক নয় এতে করে সে আরো বেশি জিদ বা রাগ দেখাবে, তাকে বুঝাতে হবে কোনটা সঠিক ,কোনটা নয়।অনেক সময় বাবা মা দায়ি থাকে তাদের এ আচারনে,তাদের  বাড়াবাড়ি ও সীমাতিক্রম করতে দেখা যায় ফলে সন্তান হয় একরোখা, বদমেজাজি।

বর্তমান প্রজন্মের শিশুদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল, মা বাবারা প্রায় কাহিল হয়ে পরেন বুঝতে পারেন না কি করবেন ,ফলে আবেগের বশবর্তি হয়ে তারা অতিরিক্ত শাসন বা রাগ দেখান ফলে শিশুরা আরো বেশি জেদি হয়ে পরে যেটা ঠিক নয়।বর্তমানে বাচ্চা কান্না করলে বা অভিভাবক ব্যাস্ত থাকলে তার হাতে আমরা মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে দেই যাতে সে ওটা নিয়ে ব্যাস্ত থাকে।দেখা্যায় শিশুরা সারাদিন মোবাইল দেখছে খাওয়া,ঘুম,খেলাধুলাও পরিবারের সাথে সময় কাটানো কোনটি হচ্ছে না। ফলে বাচ্চা ন্যাচরাল ভাবে বেড়ে উঠছেনা তার স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠায় ব্যাঘাত ঘটছে সে পারিবারিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা থেকে বন্থিত হচ্ছে।ফলে শিশু নিয়ন্ত্রন এর বাইরে চলে যাচ্ছে,এই জন্য দরকার সঠিক শাসন উপায় ,যা শিশুকে নিয়ন্ত্রলে আনাতে  পারেঃ

আপনার শিশুকে সবসময় পজেটিভ ধারনা দিন তাদের সাথে সবসময় না বাচক কথা বলবেন না বাচ্চাদের বলুন কি করা উচিত, কি করা উচিত নয় – যেমন, ‘অগোছালো করবে না’ এর পরিবর্তে ‘তোমার ঘরটি পরিপাটি রাখ সুন্দর লাগবে’।এতে তাদের মধ্যো পজেটিভ ধারনা আসবে।

বাচ্চারা খেলার মাধ্যমে শেখে।আপনার বাচ্চার সাথে খেলা করুন,তাদের সাথে বিভিন্ন শিক্ষা মূলক খেলাগুল খেলুন এতে তাদের চিন্তার জগতকে প্রসারিত করবে তাছারা শিশুর সাথে অভিভাবকের একটি বন্ধন তৈরি হয় শিশু আপনাকে বন্ধু ভাবতে শুরু করে ফলে সে নিজেকে নিরাপদ ভাবে এবং সে ভাবে আপনি তাদের যত্ন নিচ্ছেন এবং তাদের দেখছেন।

অনেক বাবা মা আছেন যারা বাচ্চার সাথে সবসময় রাগা রাগি ,অতিরিক্ত শা্সন,মারপিট করে, এইগুল কখোনই করা উচিত নয় এতে হীতের বীপরিত হতে পারে।শিশুরা ভয় পেয়ে বাবা-মায়ের থেকে দূরে সরে যায়।শিশুর মানসিক অবস্থা বুঝতে হবে। আপিনি শান্তহয়ে ও আদরের মাধ্যমে কথা বলেন,দেখবেন সে আপনার কথা বুঝবে ও নিজের কথাও আপনার সঙ্গে শেয়ার করবে এতে নৈতিক ভিত্তি শক্ত হবে ও বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করতে সহায়তা করবে।

শিশুকে বকঝকা বা না মেরে তাকে গঠনমূলক শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করুন।সে কোন ভুল বা অন্যায় করলে তাকে বোঝান,বেশি চিৎকার কান্নাকাটি করলে তাকে নিজে থেকে শান্ত হওয়ার চেষ্টা করতে দিন।তাকে শাস্তি হিসাবে বাড়ির কাজকর্ম বা গঠনমূলক শাস্তদিন এতে সরাসরি শারীরিক শাস্তি দেওয়া হলো না, আবার গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে নিজের ভুলটাও সে বুঝতে পারল।কাওকে আঘাত করলে তাকেই  সেখানে ব্যান্ড-এইড লাগানোর পরামর্শ দিন।তাকে নিয়মানুবর্তিতা শিখান।

ভালো ব্যাবহার,কাজ এবং ভালো রেসাল্ট করলে তাকে পুরস্কৃত করুন তাকে বাহাবা দিন সে আরো ভালো কাজে উৎসাহি হবে।সে যদি কোন ভুল কাজ বা খারাপ রেসাল্ট করে তাকে বকাঝকা এবং নিতিবাচক কথা বলবেন না পরের বার যেন সে ভালো কাজ করে সে আলোচনা করুন।

শিশুর কাছে আপনি  কেমন আচরণ প্রত্যাশা করেন, তা ভালো  করে বলতে হবে,তার সাথে আপনার ইচ্ছা ,আপনি কি ভাবছেন ,কি চান আপনি তার কাছে তা পরিষ্কার করুন তার সাথে গল্প করুন এতে সে আপনাকে বুঝবে এবং আপনার জন্য সে কাজটি করতে উৎসাহ পাবে।

শিশুকে পরিবারের মুল্য বোঝান,পারীবারিক শিক্ষা দিন বড়দের সাথে ভাল ব্যাবহার করতে ও সম্মান করতে সেখান।অসহায় ও গরীবদের কে সাহায্য করতে শিক্ষা দিন তাদের হাত দিয়ে কোন অসহায় ব্যাক্তিকে খাবার বা অর্থ দিন এতে সে দয়ালু হবে ও সামাজিকতা শিখবে।

তাকে বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়ে যান,পার্কে খেলাধুলা করা ও চিরিয়াখানা নিয়ে যান এতে সে মুক্ত পরিবেশে বড় হবে মন শান্ত থাকবে ইতিবাচক চিন্তা করতে শিখবে।তাকে বাগান করতে ,গাছে পানি ও পাখিদের খাবার দিতে বলুন এতে তার সময় কাটবে।

সর্বপরি ,মা বাবায় পারে তার শিশুকে সামলাতে ও সঠিক  শিক্ষা দিতে ।এখন সবকিছু পরির্তন হয়ছে ফলে যুগের সাথে তাল মিলাতে হবে এবং অতীতের মত চিন্তা ভাবনা করলে হবে না।এই প্রজন্মকে সামলাতে হলে  স্মার্ট প্যারেন্টিংয়ের এর উপর জোর দিতে সুতরাং মা বাবাকে শিখতে হবে ও জানতে হবে এই সম্পর্কে।তাহলেই আপনার বাচ্চাকে আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন।

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *