ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিরোধে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ

চলছে ডেঙ্গুর মৌসুম বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যায়।ছোট বড় নানা বয়সের মানুষ আক্রান্ত হয়,এর ফলে অনেক মানুষ মারা যায় এবং মারাত্বক শ্বাস্থ ঝুকিতে থাকে।বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি ঝুকিতে থাকে। বর্ষা মৌসুমে ও পানি বদ্ধ বস্তি এলাকায় ডেঙ্গু বেশি দেখা যায়।আসুন জেনে নেওয়া যাক ডেঙ্গুর কারণ,লক্ষন ,প্রতিকারঃ

ডেঙ্গু কি?ডেঙ্গুর রোগের কারণ?

ডেঙ্গু একটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয় যা বেশিরভাগই এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির স্ত্রী মশার কামড়ে ছড়ায়।ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোন ব্যক্তিকে কামড়ালে, সেই ব্যক্তি ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়।সাধারণত শীতকালে ডেঙ্গু জ্বর হয় না, বর্ষাকালে এই জ্বর বেশি হয়। ডেঙ্গু প্রধানত দুই ধরনের হয়ে থাকে, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভার এবং ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার।ডেঙ্গু বিশ্বের সবচেয়ে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া মশাবাহিত ভাইরাল রোগ। জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রুত নগরায়ন এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।তাছাড়া বাড়ির আশেপাশে ঝোপঝাড় ,ময়লা আর্বজনা ও পানি জমে থাকার ফলে মশা দ্রুত বংশবিশ্তার করে। এর প্রাদুর্ভাব সাধারণত  বর্ষা ও গ্রীষ্ম মৌসুমে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেঙ্গুকে জনস্বাস্থ্যের জন্য শীর্ষ দশ হুমকির একটি হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে।

ডেঙ্গু আক্রান্তের লক্ষন সনাক্ত করন?

অনেক সময়  ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ হয় না  বা শুধুমাত্র হালকা অসুস্থতা হতে পারে, তবে এটি ফ্লুর  মতো উপসর্গও সৃষ্টি করতে পারে।ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ তিন থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়।ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু ফিভারে বেশি লক্ষন দেখা যায়না বা খুব সহজে তা ভালো হয়ে যায় কিন্তু হেমোরেজিক ফিভার মারাত্বক আকার ধারণ করে এবং বিভিন্ন সমস্যা ও লক্ষন দেখা যায় তা নিচে আলোচনা করা হলঃ

  • উচ্চ জ্বর (40°C/104°F)
  • তীব্র মাথাব্যথা
  • চোখের পিছনে ব্যথা
  • বমি বমি ভাব
  • ফুলে যাওয়া গ্রন্থি
  • ফুসকুড়ি

পেশী, জয়েন্ট বা হাড়ের ব্যথা এতটাই তীব্র যে ডেঙ্গুকে কখনও কখনও ‘ব্রেকবোন ফিভার’ বলা হয়।

তাছাড়া সমস্যা বেশি গুরত্বর হয়ে গেলে আরো জটিলতা দেখা দেয় ফলে রক্তনালীগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্লেটলেটের সংখ্যা (কোষ যা জমাট বাঁধে) কমে যায়।মারাত্মক ডেঙ্গু শক, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত, মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত, অর্গান ফেইলর , বমি বা মলে রক্ত এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।তাই এই সব লক্ষন দেখা যাওইয়া মাত্রই রোগিকে হাসপাতালে ভর্তি করুন।

ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকরা রক্তের পরীক্ষা করতে বলেন যেমনঃএসজিপিটি ,কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি), ডেঙ্গু এনএস ওয়ান অ্যান্টিজেন, ও এসজিওটি। এগুল রির্পোট দেখে সনাক্ত করা যায় আপনার ডেঙ্গু হয়ছে কিনা।

ডেঙ্গু জ্বর হলে কি করবেন?

ডেঙ্গুর আলাদা কোন চিকিৎসা নেই,সাধারনত জ্বর হলে প্যারাসিটামল খেতে বলা হয়। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন, ক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন–জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না এতে রক্তক্ষরণ হতে পারে।পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।

ডাবের পানি, ফলের জুস ,সুপ জাতীয় খাবার, খাবার স্যালাইন এবং প্রচুর তরলজাতীয় খাবার  গ্রহণ করতে হবে ।

জ্বরকালীন সময়ে  নিয়মিত রক্তে প্লাটিলেট কাঊন্ট চেক করতে হবে, ১০ হাজারের নিচে নামলে বা শরীরের কোনো জায়গা থেকে রক্তপাত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। নিয়মিত হেলথ চেকাপ করতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বর থেকে রক্ষা পেতে কি করতে পারি?           

  • ডেঙ্গু জ্বরের ঝুঁকি কমানোর সর্বোত্তম উপায় হল মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এই জন্য প্রয়োজন সচেতনা ।
  • উন্মুক্ত ত্বক ঢেকে রাখুন, বিশেষ করে রাতে যখন আশেপাশে মশা বেশি থাকে।
  • বাড়ির আশেপাশে আবদ্ধ জল  যেমনঃবালতি বা ব্যারেল,  বৃষ্টির জল ধরে রাখতে পারে এমন পুরানো টায়ার,টবে জমে থাকা পানি সরান এবংপানি জমতে পারে এমন নিচু জায়গাগুলি পূরণ করুন।কারণ বদ্ধ জলে মশা ডিম পারে।
  • রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন।
  • ভোরের দিকে এবং সন্ধ্যার সময় বাড়ির দরজা জালনা বন্ধ রাখুন।
  • বাড়ির চারপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখুন,যেখানে সেখানে ময়লা ,আর্বজনা ফেলা যাবে না এতে মশা বংশবিস্তার করে।ড্রেনে  এবং জঙ্গলে মশা মারার স্প্রে ব্যাবহার করুন।
  • ফার্মেসি বা দোকানে মসকুইটো রেপেলেন্ট অর্থাৎ মশা নিরোধীকরণ স্প্রে, ক্রিম পাওয়া যায় যা ব্যাবহার করলে  মশার কামড় থেকে বাঁচাতে পারা যায়
  • ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে ভ্যাকসিন আবিষ্কার  হয়েছে, নেওয়ার আগে অবশ্যই ডক্টরের পরার্মশ নিন।

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *