বাচ্চাদের মালিশে এই তেল ব্যবহার করবো? এই প্রশ্নের উত্তর যে কোন নবজাতকের মায়ের মনে আসাটা খুব স্বাভাবিক ।কারণ, এখন ডাক্তারে রা সরিষার তেল মালিশের ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করছেন।
আমার ছোট বাচ্চা আছে, এই বিষয় টা আমিও অনুসরণ করেছি। তবে সরিষার তেল কিন্তু পুরোপুরি অ্যাভোয়েড করতে পারি নাই। ঠান্ডা লাগালে সরিষার তেলের গুণ খুব ভালো উপলব্ধি করা যায়। বাচ্চার ক্ষেত্রেও তাই।
কখন, কি জন্য ব্যবহার করেছি? সেই বিষয় গুলোই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আপনাদের সাথে শেয়ার করছি এখানে।
- সর্দি হলে – বাচ্চার যখন সর্দি হয়, এটা বাচ্চার জন্য অসুখের প্রথম অভিজ্ঞতা বলা যায়। বাচ্চা র নাক বন্ধ হয়ে যায়। ঘুমাতে পারে না, দুধ খেতে পারে না। হালকা গরম সরিষার তেলে এক টুকরো রসুন, এক চিমটি কালো জিরা দিয়ে হালকা গরম করে নিন। এই তেল হাতের তালুতে নিয়ে ঘষে বাচ্চার বুকে, পিঠে, হাত পায়ের তালুতে ঘষে দিন। বাচ্চা কিছুটা আরাম পাবে। ঘুমানোর আগে এভাবে দিয়ে দিলে বাচ্চার ঘুম ভালো হয়। সর্দির প্রকোপ কমে যায়। নিয়মিত এভাবে পরিচর্যা করলে দ্রুত ঠান্ডা লাগা কমে যায়।
- কাশি – কাশিও বেশ কষ্ট দায়ক বাচ্চার জন্য। বারবার ঘুম থেকে জেগে যায়। বুকে কফ জমে গেলে কষ্ট আরও বেড়ে যায়। সরিষার তেলে দুই /তিন চিমটি জোয়ান দিয়ে গরম করে তা বাচ্চার পায়ের তালুতে এবং বুকের ছাতি বরাবর ঘষলে কাশি কমে আসে। দিনে ২ বার এভাবে পরিচর্যা করলে কাশি কমে যেতে পারে। তবে পাশাপাশি অন্যান্য সতর্কতা জরুরি। ( সরিষা র তেল, সাথে এক টুকরো রসুন এবং জোয়ান একসাথে ভালোমতো গরম করে নিতে হবে) ।
- আমাশয় – যখনই আবহাওয়া পরিবর্তন হয়, বিশেষ করে শীতের শুরুতে। এই সময় অনেক বাচ্চারই হজমে সমস্যা হয়। আমাশয় হয়। এরজন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেয়াই অপরিহার্য। তবে মা এবং নানি-দাদির থেকে শেখা একটা ঘরোয়া পথ্যি হল, সরিষার তেল গরম করে ওই একই ভাবে হাতের তালুতে ঘষে বাচ্চার তল পেট, মাজা, পেছনের দিকে আলতো হাতে তেল দিয়ে দিলে পেটে মোচড় কমে যায়। আরাম পায়। ঘন ঘন পায়খানা হওয়ায় প্রবণতা কমে যায়।
আমি আমার বাচ্চা পালনের ক্ষেত্রে এই তিনটি বিষয়ে অভিজ্ঞতা পেয়েছি। এই নিয়ে আমার পরিচিত অন্য মায়েদের সাথে কথা বলে জেনেছি, তারাও একমত। সরিষার তেল বাচ্চার নিয়মিত মালিশের ক্ষেত্রে প্রাধান্য না পেলেও এই তেলের একটা আলাদা গুণ আছে। যা ঠান্ডা, রোগ বালাই উপশমে বেশ কার্যকর।
এছাড়াও বাতের ব্যাথা, হাত-পায়ের জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, আথরাইটিস ইত্যাদি রোগী দের ক্ষেত্রেও সরিষার তেল কার্যকর ভূমিকা রাখে। অনেক জটিল বিষয়ে না হোক, বাচ্চার সুবিধা এবং সুস্থতার জন্য হাতের কাছে রাখতে পারেন। তবে অবশ্যই বিশুদ্ধতা যাচাই করে নিবেন।

