আমাদের দেশের প্রধান ঋতু গ্রীষ্ম। বছরের চার মাস থাকে শীতকাল। শীতকালের আবহাওয়া তে খাপ খাইয়ে চলার মতো আয়োজনে আমরা খুব বেশি অভ্যস্ত নই। এজন্য এই চার মাসেও নানা রকম রোগের ভোগান্তি থাকে। এজন্য বেশি কষ্ট হয় শিশু এবং বয়স্কদের।
নবজাতক থেকে শুরু করে ১০ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের যত্ন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে মা কে নিতে হয়। এজন্য এই সময় বাচ্চাদের যত্ন একটু বিশেষ ভাবে নেওয়া প্রয়োজন এবং কোন বিষয় গুলোতে সতর্ক থাকবেন সে বিষয়েও খেয়াল রাখুন।
জামা–কাপড়
শীত থেকে দূরে রাখতে শিশুদের উলের কাপড় পরিধান সব থেকে বেশি উপকারি। তবে সরাসরি উলের কাপড় পরে বাচ্চা আরাম পাবে না। এজন্য ফুলহাতের সুতি কাপড় পরিয়ে তারপর উলের কাপড় বা গরম কাপড় পরাবেন।গরম কাপড় কেনার সময় সিনথেটিক টাইপ না নিয়ে উল বা পিওর কটন এর গরম কাপড় কিনুন।
কোন বাচ্চার গরম কেমন?
এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাচ্চাদের জন্য। শীতকালে বাচ্চাকে কেমন কাপড় পরাবেন তা বোঝার জন্য, বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা বোঝা খুব জরুরি। যেমন: নবজাতকের জন্য অনেক কে বলতে শুনেছি, বাচ্চাদের গরম বেশি। ৪০ দিন তেমন কাপড় পরানোর দরকার নাই। কাপড়ে পেচিয়ে নিয়ে রাখলেই চলবে।
এটা খুব ভুল একটা কথা। সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা কম ( গর্ভাবস্থার তুলনায় কম, যেটাতে সে এতোদিন অভ্যস্ত) এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম। এজন্য খুব অল্পতেই ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য সদ্যোজাত বাচ্চাকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড় পরিয়ে মায়ের বুকের সাথে জড়িয়ে রাখা উচিত।
৬ থেকে ১ বছর বয়সী বাচ্চারা অনেক ছুটাছুটি করে।হামাগুড়ি দেয়। যা পায় তাই মুখে দেয়।এসময় তাদের একটু ঠান্ডা কম লাগতে পারে। তারপরও আবহাওয়া অনুযায়ী গরম কাপড়, টুপি, মোজা সবই পরিয়ে রাখুন। তবে ঘুমের সময় বাচ্চার টুপি ও মোজা খুলে রাখুন। ডাক্তারের পরামর্শ নয়, কিছু বাস্তব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে অতিরিক্ত গরমের ফলে। যার জন্য অনেক মা কে এই পরামর্শ দিতে শুনেছি, আমিও আমার বাচ্চার ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছি।পাশাপাশি বাচ্চার হাত পরিষ্কার রাখুন যতটা সম্ভব। এরজন্য ভেজা টিস্যু ব্যবহার করতে পারেন।
১- ৬ বছর বয়সী বাচ্চাদের কাপড় পরানো মুশকিল হয়ে যায়। এ ব্যাপারে আমার মনে হয় প্রত্যেক বাবা মা’ই ভালো বুঝবেন তাদের কি করা উচিত এবং কিভাবে পরিস্থিতি সামলে নেবেন।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে আপনি কিছুটা সচেতন হতে পারেন। এজন্য যা যা করতে পারেন তা তুলে ধরা হলো –
সবজি ও ফলমূল- বাচ্চার খাবারে শীতকালীন সবজি রাখুন নিয়মিত। গাজর, পালংশাক,টমেটো, ফুলকপি, বাধাকপি ও আরও অন্যান্য সবজি গুলো নিয়মিত খাওয়ার তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।সাথে মৌসুমি ফল রাখুন। প্রতিদিন ফল খেলে বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সাথে তাদের বাড়ন্ত বয়সের অফুরন্ত এনার্জির ভালো সাপোর্ট দেয় রঙিন ফল।
রোদের মধ্যে খেলাধুলা – শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খেলাধূলার বিকল্প নেই। তবে তা বদ্ধ ঘরে নয়, খোলা মাঠে হলে বেশি উপকারি হবে। তবে শীতকালে বাচ্চারা বিকেলে খেলার সুযোগ কম পায়। এক্ষেত্রে যদি দিনের বেলা বা সকালের রোদে বাচ্চা খেলার সুযোগ পায়, তা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। এজন্য প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে অন্তত ২/৩ দিন বাচ্চাকে গোসলের আগে, খোলা রোদের মধ্যে খেলার সুযোগ করে দিন। এটি বাচ্চার সুরক্ষায় যত্নের মধ্যে বিবেচিত হয়।
গরম পানির ব্যবহার – বাচ্চার হাত মুখ ধোয়া, গোসল সহ পান করার জন্য গরম পানি ব্যবহার করুন। অর্থ্যাৎ, ব্যবহার উপযোগী কুসুম গরম পানি বাচ্চার জন্য নিয়মিত ব্যবহার করুন। এতে বাচ্চার ঠান্ডা লাগার প্রবণতা কমে যাবে।
ভীড় ও জনসমাগম এড়িয়ে চলা- খুব ভীড় হয়, বিশেষ করে মেলা, কনসার্ট বা এক্সিবিশন, এমন জায়গায় বাচ্চাকে নিয়ে যাওয়া থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকুন। যে কোন ভাইরাস জনবহুল জায়গা থেকেই বেশি ছড়ায়। আর শীতকালে মানুষের সর্দি, কাশি বা ভাইরাস জ্বর বেশি হয়। তাই বাচ্চাকে সুস্থ রাখতে, যেকোনো ভীড় পরিহার করুন যতটা সম্ভব।
এছাড়াও প্রয়োজন মতো হাত পরিষ্কার করা, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা ইত্যাদি যেন সুস্থ থাকার জন্য প্রাত্যাহিক জীবনের বেসিক রুলস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এগুলোর চর্চা আপনার বাচ্চাকে সুস্থ ও সচেতন থাকতে সহায়তা করবে।
আপনার সোনামণি কে ভালো রাখতে আপনি যতটা সম্ভব যত্নে রাখুন। তার সব বিষয়ে সচেতন থাকুন। সব বাচ্চা এক নয়। কিছু বাচ্চা অল্পেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কেউবা সহজে দূর্বল হয় না। এতে ঘাবড়ে যাবেন না। একজন অভিভাবক হিসেবে আপনি আপনার বাচ্চার সর্বোচ্চ যত্ন নিশ্চিত করবেন এবং আপনার বাচ্চা যেভাবে ভালো থাকবে তাকে সেভাবেই তার পরিবেশ তৈরি করুন ।
বাচ্চাকে যত্নের পাশাপাশি হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত রাখার চেষ্টা করুন সবসময়।

