শিশুদের শরিরে তেল মালিশ অনেক যুগ থেকেই প্রচলিত হয়ে আসছে আগেকার যুগের দাদি নানিরা রোদে বসে তাদের আদরের নাতি নাতনিদের শরীরে পরম মমতায় তেল ম্যাসাজ করে দিতেন।এখন সেই প্রথা চলে আসছে।বাচ্চার শরীরে তেল দেওয়ার অনেক উপকার আছে ,তবে জানতে হবে কিভাবে ও কখন দিতে হবে এবং কি তেল মালিশ করতে হবে।
শিশুদের শরীরে তেল মালিশ করার উপকারিতাঃ
তেল মালিশ শিশুর জন্য ভালো এতে করে শিশুর নরম এবং নাজুক ত্বককে সুরক্ষা দেয়, ত্বককে আর্দ্র রাখে। মালিশের মাধ্যমে শিশুর স্ট্রেস হরমোন বা করটিসল কমে এবং ভালো হরমোন যেমন সেরোটোনিন এবং ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়ে এতে শিশুর শরীরে উদ্দিপনা সৃষ্টি হয় এবং শিশুর হাড় ও পেশি মজবুত হয়,শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালোভাবে হয়।তাছাড়া তেল মালিশের সময় বাচ্চার সাথে মায়ের বন্ধন দৃঢ় করে।তেল মালিশ করলে শিশুর হজম ক্ষমতা বাড়ে এবং শরীরে গ্যাস কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে।
কিভাবে ও কখন তেল মালিশ করবেনঃ
কোন বয়সে বাচ্চাদের শরীরে তেল মালিশ করবেন এই নিয়ে অনেকের মনে প্রস্ন থাকে সাধারনত শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেন জন্মের ২ মাস পর থেকে তেল মালিশ শুরু করা যায় কারন জন্মের সময় শিশুর ত্বকের উপরের স্তর খুবই পাতলা থাকে এবং সহজেই এই ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাই জন্মের প্রথম দুইমাস তেল মালিশ না করাই ভালো।
তেল মালিশের ভালো সময় হচ্ছে গোসলের আগে এতে শিশুর স্বাস্থ্যের কোনও ক্ষতি হয় না।শীতে বা গরম পানি দিয়ে গোসলের আগে তেল মালিশ করল শরীর ও মন ঝরঝরা থাকে।শীতে তেল মালিশ সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।শিশুর শরীরে তেল মালিশ সবসময় আলতো করে এবং ধীরে ধীরে করা উচিত খেয়াল রখতে হবে যেন শিশু এই সময় শান্ত থাকে।শিশু যদি অসুস্থ থাকে বা টিকা দেওয়া বা অন্য কারনে শরীর ব্যাথা থাকে তাহলে সেই সময় তেল মালিশ না করাই ভালো।অনেক সময় বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগলে রসুন এর সাথে শরষে তেল গরম করে তা ঠান্ডা করে শিশুর শরীরে বিশেষ করে বুকে ও নাকে দিলে শিশু আরাম পায়।
কোন তেল শিশুর জন্য ভালোঃ
বাজারে অনেক তেল আছে যেমন অলিভ ওয়েল ,নারিকেল তেল,বাদাম তেল ,সরষে তেল,তিলের তেল এই সবগুলয় আপনার শিশুর শরীরে মালিশ করতে পারেন।কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে শিশুর শরীরে কোনটি ভালো কাজ করছে বা শিশুর শরীরে কোন জ্বালাপোড়া বা সংবেদনশীল কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। হালকা, নন-স্টিকি তেল এবং শিশুদের জন্য বিশেষ করে তৈরি মাসাজ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

