সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বক কে না চাই।এর জন্য আমরা কত সময়,অর্থ ব্যায় করি।আমরা বাহ্যিক সৈন্দর্য্য টাকে বেশি প্রাধান্য দেয় কিন্তু আমরা ভুলে যায় “স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল” আপনি সুস্থ থাকলে আপনার জীবনে সব কিছুই সুন্দর।স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্যের মধ্যে গভীরসংযোগ রয়েছে ।ত্বকের স্বাস্থ্য একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা উপর অনেক বেশি নির্ভর করে।সঠিক পুষ্টি, হাইড্রেশন, ব্যায়াম এবং ঘুমের মাধ্যমে ত্বকের গঠন উন্নত করা যেতে পারে, বার্ধক্যের লক্ষণগুলি হ্রাস করা যেতে পারে এবং ত্বকের সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
সৈন্দর্য ! শব্দটি যতই ছোট; এর তাৎপর্য তেমনি বিশাল|অনেকেই শুনেছি, ”আগে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারী’রুপচর্চা মানে কি সুধু সুন্দর হওয়া ,আমরা হয়ত সুন্দর বলতেশুধুমাত্র চেহেরা টাকে সুন্দর মনে করি।মূলত সৌন্দর্যের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আপেক্ষিক আর আবেগজনিত । বর্তমানে আমরা সুন্দরের কথা বললে ফর্সা আর চিকন মানুষের কথাই বুঝি| সৃষ্টিকর্তা সকলকেই তাদের নিজ নিজ সৌন্দর্য, গুণাবলী ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দান করেছেন; যা এক জন থেকে অন্যজনকে আলাদা করতে সাহায্য করে। তাই বাহ্যিক সৌন্দর্যর কোন আদর্শ মানদণ্ড নেই ।গায়ের ত্বকের কালো বা ফর্সা এই বিষয়টির চর্চা কেবল এখনকার নয়, সেই বহু যুগ থেকেই আমাদের সামাজে চলে আসছে|এখন সুন্দর মানেই ফর্সা নয়। সুন্দর ফর্সা হয়, শ্যামলা হয়, আবার কালোও হয়,এটা সম্পুর্ন যার যার দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার। সুন্দর ত্বক পেতে রুপচর্চার জন্য আমরা ফেয়ারনেস ক্রিম বা প্রসাধন দ্রব্যে ব্যাবহার করি যার বেশিরভাগের মধ্যেই রয়েছে হাইড্রোকুইনোন, যা থেকে হতে পারে ক্যান্সার ।ত্বকের রঙ যা-ই হোক না কেন নিদাগ, মসৃণ আর কোমল ত্বকই হলো প্রকৃত সুন্দর। তাই ফর্সা হওয়ার জন্য চেষ্টা না করে নজর দিতে হবে কীভাবে ত্বক মসৃণ ও কোমল করে তোলা।শরীর ও মন সুস্থ থাকলে তা আপনার চেহেরায় ফুটে উঠে, যা আপনার সৈন্দর্য কে বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়।আমরা প্রায় এই জিনিসটাকে গুরত্বহীন ভাবি ।আর এই সুস্থ শরীর আমরা পেতে পারি হেলদি লাইফ স্টাইল অনুসরণ করে।তাই আমরা বলতে পারি হেলদি লাইফ স্টাইল একটী সুস্থ শরীর ও সুন্দর মনের মূলমন্ত্র।

হেলদি লাইফ স্টাইল বিষয় টা আসলে কি?
সুস্বাস্থ্য মানে শুধু রোগ বা অসুস্থতার অনুপস্থিতি নয়, এটি সম্পূর্ণ শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার একটি অবস্থা।স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রকৃত সংজ্ঞা হল সর্বোত্তম স্বাস্থ্য অর্জনের জন্য পদক্ষেপ, কর্ম এবং কৌশল গ্রহন করা অন্তর্ভুক্ত।হেলদি লাইফস্টাইল সম্পর্কে কথা বলতে হলে আমাদের কিছু বিষয় নিয়ে আগে জানতে হবে- যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য, শারীরিক ব্যায়াম, স্বাস্থ্য সেবা, সামাজিক কার্যকলাপ ইত্যাদি।যা আপনাকে সুস্থ থাকতে বিভিন্ন নির্দেশনা প্রদান করবে।
হেলদি লাইফ স্টাইল কি ব্যায়বহুল ?
অনেকের মনে এই প্রশ্নটাআসে ,অনেকে ভাবে ভাল থাকতে অনেক খরচ হয় আসলে তা নয় আপনি কম খরচ করেও একটী ব্যালেন্স হেলদি লাইফ স্টাইল মেইনটেইন করতে পারবেন। এই জন্য আপনাকে ব্যালেন্সড ডায়েট কনট্রল,নিয়মিত হাটা ,পুষ্টিকর খাবাড় খাওয়া ,নিয়মিত এক্সাসাইজ করা,স্ট্রেস ফ্রি থাকা এইগুল আপনাকে হেলদি লাইফ লিড করতে সাহায্য করবে ,এইগুল আপনি খুব কম খরচে বা বাড়িতে বসে করতে পারবেন ,গুণতে হবে না কোন এক্সট্রা খরচ।

আমরা কি পারি নিজের আয়ত্তের মধ্যে একটা হেলদি লাইফ স্টাইল মেইনটেইন করতে?
আপনার সুস্থতার চাবিকাঠি আপনার হাতে ।পৃথিবির সব চাইতে কঠিন কাজ হলো নিজেকে সব সময় ভালে রাখা। আবার অনেকের কাছে এটা খুবই সহজ। আসলে কি প্রচুর অর্থ আর আভিজাত্য কী মানুষকে একটি সুস্থ জীবন এনে দিতে পারে??কখনয় নয় ,আপনার ইচ্ছা ,নিজের প্রতি ভালোবাসা একটি সুন্দর জীবনের সপ্ন পূরণের লক্ষে পৌছে দিতে পারে ।ভালো থাকতে জীবন থেকে নেগেটিভ জিনিসগুল হটিয়ে দি্ন,নিতিবাচক লোকদের সাথে মেলামেশা কমিয়ে দিন।নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করবেন না এইজিনিস গুল সুস্থ জীবনের অন্তরায়।নিজের থেকে সব খারাপ চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিন এইগুল করতে প্রচুর অর্থ ব্যায় করা লাগে না ,আপনার ভালো থাকার ইচ্ছায় পথকে সুগম করে দেয়। সব সময় পজেটিভ চিন্তা করুন পরিবারের সাথে সময় কাটান,সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত থাকুন,কিছুটা সময় প্রার্থনায় অতিবাহিত করুন, বই পড়ুন,মিনিমাইজ করুন নিজের জীবন কে,অল্পে সেটিসফাই হোন।পর্যাপ্ত ঘুম ,নিয়মিত শরীরচর্চাওর্সেলফ কেয়ার এইসবকিছু আপনাকে পজিটিভ ধারণা দিবে।ছোট ছোট জিনিসগুল আপনাকে বড়কিছু অর্জনে সাহায্য করবে।
প্রচুর পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম আর দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা কতটা জরুরি?
একটী সুস্থ জীবন কে না চাই।সুস্থ বলতে কি শুধু শারীরিক সুস্থতাই বুঝি কিন্তু এর মাঝে আমরা যা ভুলে যায় তা হল মানসিক স্বাস্থ্য ।মন ভালো থাকলে শরীর ভালো থাকে।
আপনি যদি আপনার স্ট্রেস-ভরা জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার সহজ উপায় খুঁজছেন, তাহলে এক গ্লাস পানি পান করুন।বেপারটা খুব সহজ তাইনা ? আমাদের মস্তিষ্ক সহ আমাদের সমস্ত অঙ্গগুলির সঠিকভাবে কাজ করার জন্য পানি প্রয়োজন। আপনি যদি ডিহাইড্রেটেড হন, আপনার শরীর ভালভাবে কাজ করবে না এবং এটি মানসিক চাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে।পানির অভাবে ডিহাইড্রেশন হতে পারে, এবং ডিহাইড্রেশন স্ট্রেস সৃষ্টি করতে পারে।তাই সারাদিনে পরিমিত পানি পান করুন ।গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন যে অপর্যাপ্ত ঘুম মানসিক স্বাস্থ্য ওপর প্রভাব ফেলে যা হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলে। ডাক্তাররা পরামর্শ দেন যে প্রাপ্তবয়স্কদের গড়ে সাত থেকে নয় ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন ।ঘুম এবং মানসিক চাপ একসাথে চলে। চিন্তিত মন আপনাকে পুর রাত আপনাকে জাগিয়ে রাখতে পারে এবং ঘুমের অভাবে উদ্বেগের মাত্রা বাড়াতে পারে। মানসিক চাপ কমাতে এবং আপনার স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার জন্য আপনি আপনার ঘুমের সময়সূচীর ভারসাম্য বজায় রাখুন।শত ব্যাস্ততার মাঝে একটু নিরিবিলি জায়গা দেখে একটু ঘুমিয়ে নিন। দুশ্চিন্তা কেটে যাবে।

দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণের উপায়?
বর্তমানে সময়ওপরিস্থিতির নানা জটিলতায় অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা একটি কমন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননা কি করবেন,কাকে বলবেন এর কি কোন সমাধান আছে?বিশেষজ্ঞরা বলেন, লাইফ স্টাইলএ পরিবর্তন আনলে এবং কিছু উপায় নিয়মিত মেনে চললেই অতিরিক্ত চিন্তা থেকে নিজেকে দূরে রাখা যায়।আসুন জেনে নিই, সে উপায়গুলোটেনশন বা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে বিশ্রাম কোনো বিকল্প নেই। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের পর মানসিক চাপ অনেকটা কমে যায়।তাই অযথা রাত জাগা বা না ঘুমিয়ে থাকা পরিহার করুন।
সৃষ্টিকর্তা কাছে প্রার্থনা করুন যে সমস্যা গুলোর জন্য মানসিক চাপ অনুভব হচ্ছে, প্রার্থনার মাধ্যমে সেগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারি এবং এতে মানসিক প্রশান্তি লাভ হবে।অতিরিক্ত ব্যাস্ততায় যখন মানসিক চাপ অনুভব হয় তখন কিছু সময়ের জন্য সকল কিছু থেকে ব্রেক নিয়ে একটু মুক্ত বাতাসে হাঁটতে বের হন।বাইরের মুক্ত বাতাসে অক্সিজেন বেশি থাকে তা গ্রহন করলে দ্রুত মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
মানসিক চাপ কমানোর উপায় হিসেবে প্রিয় মানুষদের সাথে সময় কাটানো খুব ভালো টনিক হিসাবে কাজ করে।আপনি মন খুলে আপনার বন্ধু ও কাছের মানুষ গুলর সাথে গল্প করুন এতে মন হালকা হবে।আধুনিক সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসে অতিরিক্ত সময় ব্যায় যা আপনাকে ডিপ্রেশনে দিকে নিয়ে যেতে পারে।তাই প্রয়োজনের বাইরে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যাবহার বন্ধ করুন আর নিজেকে সময় দিন এবং যতটা সম্ভব প্রকৃতির কাছকাছি ঘুরতে যান,সময় পেলে ভ্রমণে বের হয়ে পরুন এতে দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকা যায়।
নিজেকে সময় দিন আপনার যা ভাল লাগে সেই কাজগুল করুন ,ছবি আঁকা,বই পড়া,গান শোনা ,মুভি দেখা ,পোষা প্রানীর সাথে সময় কাটানো,এইগুল আপনাকে মানসিক প্রশান্তি দিবে।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা যদি আপনার প্রত্যাহিক জীবনে বাঁধা সৃষ্টি করে তাহলে বসে না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Content Developer : Nahida Akter

