বাচ্চা জন্মানোর পর জীবন ১৮০° ঘুরে যায় বললেও খুব একটা ভুল হবে না। নিজেদের অনেক অভ্যাস বদলে যায়, পাশাপাশি মন মানসিকতা বিশাদগ্রস্থ হয়ে পড়ে। একজন মা এর জন্য এই বিষয় গুলো অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর থেকে বেরিয়ে আসতে, বাচ্চার বাবা-মা দুজন মিলেই ছোট ছোট প্ল্যান করে ঘুরতে শুরু করুন।
ঘুরতে বের হওয়া সব সময়ই আনন্দের। বাচ্চা নিয়ে ঘুরতে যাওয়া অনেক টা দুঃসাহসিক অভিযানের মতো। তবে অসম্ভব কিছু নয়। এর জন্য মন মানসিকতা তৈরি করুন।
ছোট ছোট টিপস আকারে আমরা আপনার প্ল্যান সাজাতে সাহায্য করছি-
• প্রথম বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে যদি সম্ভব হয় কোনো নিকট আত্মীয়র বাড়ি বেছে নিতে পারেন। যেখানে গেলে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট পাবেন, আবার বাচ্চা নিজের পরিচিত গন্ডির বাইরে নতুন একটা পরিবেশের সাথে পরিচিত হবে।
যাবার সময় রাস্তায় বাচ্চার খুব প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো র একটা আলাদা ব্যাগ করুন এবং সেটা হাতের কাছে রাখুন। যেমন – এক বোতল পানি, গরম পানির ফ্লাক্স অথবা ফর্মুলা মিল্ক বানানোর জিনিস পত্র, ডায়পার, ভেজা টিস্যু, এক সেট জামা কাপড়, একটা ছোট তোয়ালা বা বড় সুতি রুমাল, । যদি বাচ্চা একটু বড় হয়ে থাকে, তাহলে কিছু শুকনো খাবার নিয়ে নিন।
ব্যাগ গোছানোর সময় কিছু বাড়তি জিনিস ব্যাগে রাখতে হবে, যেমন –
• আবহাওয়া অনুযায়ী বাচ্চার জন্য যেমন জামা কাপড় নেয়া প্রয়োজন, তা তো নিবেন ই, প্রয়োজন এর অতিরিক্ত ২/৩ সেট নয়ে নেবেন।
• আমাদের আবহাওয়া ২ দিন টানা বৃষ্টি হলেই বদলে যায়। এই চিন্তা মাথায় রেখে ফুল স্লিভ হাতা ওয়ালা জামা ও পাজামা নিয়েন ২/১ টা।
• বাচ্চার ঘুমানোর সুবিধার জন্য তার ছোট বালিশ বিছানা এবং একটা নরম চাদর যা যা প্রয়োজন তার মধ্যে যে জিনিস গুলো না নিলেই নয় তা নিয়ে নিন।
মন যেতে চায় বহুদূর– যাত্রা করুন সহনীয় দুরত্বের পথে। মানে যতটুকু দূরত্ব আপনি সুস্থ থাকবেন এবং বাচ্চা স্বাচ্ছন্দ বোধ করবে। এই কথা বলার কারণ, ঠিক মতো ঘুম এবং সময় মতো না খাওয়ার জন্য বাচ্চার মায়েদের শরীর ও বেশ দূর্বল থাকে। একটুতেই অস্থির লাগে, মেজাজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এই জন্য যদি আনন্দের জন্য ঘুরতে যান,খুব ভালো সিদ্ধান্ত। তবে বাচ্চা যেহেতু বাবা ও মা এর ওপর নির্ভরশীল, তাই যতটুকু দূরত্ব আপনারা স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে অতিক্রম করতে পারবেন এবং বাচ্চার যাবতীয় দেখভাল করতে ক্লান্তি আসবে না,ততটুকু দূরত্বের মধ্যে প্ল্যান সাজালে আপনাদের জন্য ভালো।
কোন সময় টা ভালো হবে?
খুব বেশি গরম বা খুব ঠান্ডা এবং অতি বৃষ্টি এই সময় গুলো বাদ দিয়ে ঘুরতে যান, বলাই বাহুল্য। দিন বা রাত এটা অবশ্যই নির্ভর করবে যার যার সুবিধার ওপর। তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো, দিনের আলোয় যতটা সম্ভব বাইরে থাকলে, বাচ্চা নতুন কিছু দেখার সুযোগ পাবে বেশি।
অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস কোন গুলো?
নতুন জায়গায় গেলে দেখা যায়, অতি পরিচিত জিনিস ও নাগালের বাইরে চলে যায়। এজন্য প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সাথে নিয়ে যান। যেমন – জ্বর, সর্দি – কাশির ওষুধ, বাচ্চার জন্য মশার ক্রীম/ ওডোমস, বাচ্চার পটি, পোর্টেবল ফ্যান বা পাখা, ইত্যাদি । বাচ্চার জন্য বেবি সিরিয়াল বা ইন্সট্যান্ট রেডি বেবি ফুড সাথে রাখতে পারেন।
বাচ্চার কোন বিষয় গুলো খেয়াল রাখা জরুরি?
যখন বাড়ি থেকে বাইরে বের হবেন, খুব স্বাভাবিক তখন নিয়মিত রুটিনের হেরফের হবে। খাবার সময়, ঘুম এই বিষয় গুলোর অনিয়ম হবে। নিজেদের বিষয় গুলো আলাদা। তবে, ছোট্ট সোনামণি যেহেতু পুরোপুরি আপনার ওপর নির্ভরশীল, তাই তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো অবশ্যই মাথায় রাখবেন।
• খাবার পানি, কতটা বিশুদ্ধ এই বিষয় টা যাচাই করে বাচ্চাকে দেবেন। আত্মীয় স্বজনের বাসা হলে সেখানে খাবার বিশুদ্ধ পানি সহজেই পাবেন। কিন্তু, পর্যটন এলাকা হলে, ভালো মানের বোতলজাত পানি খাওয়ান বাচ্চাকে।
• লম্বা সময় বাইরে থাকলেও কিছু সময় অন্তর অন্তর ছানাকে পানি পান করাতে ভুলবেন না।
• চলন্ত যানবাহনে বাচ্চাকে সব সময় নিরাপদ জায়গায় রাখুন। সরাসরি তার গায়ে বাতাসের ঝাপটা না লাগে খেয়াল করুন।
পরিশেষে একটা বিষয় মনে রাখবেন, আপনি যেখানে হাসি খুশি থাকবেন, আপনার বাচ্চাও সেখানে আপনার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকবে। তাই পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ গুলো কে ছোট খাটো বিবেচনা করে সতর্ক থাকুন। প্যানিক নেবেন না। পারিবারিক সময় কে গুরুত্ব দিন। ভালো সময় কাটান।

