ফিট থাকুন যেকোন আকারে

শারীরিক সুস্থতা এবং স্বাস্থ্য যেকোনো বয়স এবং শরীরের আকারের জন্য অত্যাবশ্যক।ফিটনেস এবং শারীরিক ক্রিয়াকলাপের ক্ষেত্রে বেশি ওজন অথবা কম ওজনের  লোকেরা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বেশির ভাগ মানুষের মনে করে যে, রোগা থাকলে তবেই সে স্বাস্থ্যবান, যার ওজন বেশি সে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী নয়,এটি সত্য নয়।  ওজন বেশি হোক বা কম আপনার স্বাস্থ্য নির্ভর করে আপনি কতটা ফিট। আমদের সবাইকে ওজন নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি কি ভাবে ফিট থাকা যায় সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে ।মনে রাখবেন শারীরিক ক্রিয়াকলাপ খুব বেশি কঠিন বা অনেক সময়ের হতে হবে এমনটি নয় , যেকোন কিছু যা আপনাকে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে (হাঁটা, নাচা, বাগান করা) এমনকি যদি তা দিনে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য হয় যাশারীরিক ভাবে ফিট হওয়ার জন্য একটি দুর্দান্ত শুরু।

কেন আমরা ফিট থাকব?

শরীর ফিট থাকলে বিভিন্ন রকম রোগ যেমনঃ টাইপ 2 ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং নির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যাগুলি থেকে রক্ষা এবংঅনেক স্বাস্থ্য সুবিধা পেতে পারি যেমনঃ

  • নিম্ন রক্তচাপ এবং রক্তের গ্লুকোজ, বা রক্তে শর্করা
  • সুস্থ হাড় ও পেশী
  • সুস্থ হার্ট এবং ফুসফুস
  • রাতে ভাল ঘুম এবং সুস্থ মন

 আপনি যতটুকু সম্ভব শরীর চর্চা করার চেষ্টা করুন। এটি আপনাকে কেবল ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করবে তা নয় এটি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রন রাখবে ।ওজন কমাতে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্য খাওয়াও প্রয়োজন।

ফিট থাকতে কি ধরনের আক্টিভিটি করতে পারি?

নিয়মিত ব্যায়াম আপনার জীবনের অংশ করার জন্য আপনাকে একজন ক্রীড়াবিদ হতে হবে বা বিশেষ দক্ষতা বা সরঞ্জাম থাকতে হবে না এমনটি নয়।আপনি উপভোগ করেন এমন কাজগুল করার চেষ্টা করুন. এতে আপনি বিরক্ত হবেন না এবং কাজটি করতে অনুপ্রেরনা পাবেন ফলে শারীরিকভাবে ফিট থাকবেন।

নিয়মিত হাঁটাঃ নিয়মিত হাঁটা ওজন কমাতে এবং ফিট থাকতে সবচেয়ে বেশি কার্যকারি, এটি করা সহজ-এবং আপনি এটি প্রায় যেকোনো জায়গায় করতে পারেন।নিয়মিতহাঁটলে ক্যালোরি বার্ণ হয়, আপনার হাড় এবং পেশী শক্তিশালী করে,শরীর ও মন ভালো থাকে ।আপনি র্পাকে,রাস্তায় অথবা বাড়ির আশেপাশে হাটতে পারেন।আপনাকে  দীর্ঘ সময় হাঁটাতে হবে এমনটি নয়  আপনি হাটার মাঝে বিরতি নিতে পারেন ।টানা এক ঘন্টা না হেটে দশ মিনিট করে বিরতি  নিয়ে আবার দশ মিনিট হাটতে পারেন।

নাচঃনাচ অনেক মজার হতে পারে , এটি আপনার পেশীগুলিকে টোন করে, আপনার হার্ট এবং ফুসফুসকে শক্তিশালী করে এবং আপনার মন প্রফুল্ল করে।আপনি জিমে,স্বাস্থ্য ক্লাবে, নাচ স্টুডিও, বা এমনকি বাড়িতে নাচ করতে পারেন. এছাড়াও আপনি আপনার টিভি বা ইউটিউবএ ওজন কমানোর বা শরীর কে ফিট রাখার জন্য বিভিন্ন নাচ রয়েছে এইগুল করতে পারেন।

সাইকেল চালানোঃশরীরকে ফিট ও একটিভ রাখতে সাইকেল চালানো হতে পারে একটি ভালো এক্সাসাইজ।অবসর সময়ে অথবা সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন আপনি পার্কে অথবা মাঠে চালাতে পারেন ,এটি আপনার মাংসপেশিকে শক্তিশালী ও ক্যালোরি র্বাণ করতে সাহায্য করবে

সাতাঁর কাটাঃ হাঁটা, নাচ বা বাইক চালানোর চেয়ে সাঁতার  আপনার জয়েন্টগুলিতে কম চাপ দেয়।     দাঁড়ানোর সময় যদি আপনার পা, পিঠ বা জয়েন্টে ব্যথা হয়, তাহলেসাঁতারকাটা  আপনার জন্য সেরা হতে পারে।পানিতে কীভাবে সাঁতার কাটতে হবে তা না জানলেও সমস্যা নেই, আপনি কম পানিতে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন এক্সাসাইজগুল করতে পারেন।আপনি যখন কঠোর পরিশ্রম করছেন তখন সাঁতার আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং পেশী ব্যথা  প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

দৈনন্দিন জীবনের কার্যক্রমঃদৈনন্দিন জীবনের ক্রিয়াকলাপ, যেমন ঘড় পরিষ্কার করা বা গাড়ি ধোয়া,বাগান করা,রান্না করা, চলাফেরা করা ইত্যাদি ছোট ছোট কাজগুলি আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।বাড়িতে শুধু বসে থাকলে শরীর ও মন দুইটাই অলস হয়ে যা আপনার ওজনকে বাড়িয়ে দেয়,তাই শুধু বসে না থেকে বাড়ীর ছোট গুলি করতে পারেন।এতে আপনার শারীরিক কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখে।

এক্সাসাইজঃশরীরের ওজনকে নিয়ত্রন রাখতে বিভিন্ন এক্সাসাইজ ভালো কাজে দেয় ।আপনি কোন প্রফেসনাল জিমে গিয়ে বা বাড়ীতে বসে রেগুলার এক্সাসাইজ করতে পারেন।আজকাল ইন্টারনেটএ এক্সাসাইজ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ,চিত্র এবং ভিডিও থাকে সেগুল দেখে ও জেনে আপনি হালকা এক্সাসাইজগুল করতে পারেন।অব্যশই ভারি ব্যায়ামগুল করার আগে কোন এক্সর্পাট এর সাথে কথা বলে নিবেন নয়ত না জেনে ভুল নিয়মে ব্যায়াম করলে লাভ এর থেকে ক্ষতি বেশি করে এইজন্য যথেষ্ট সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।

বিশ্রাম এবং  স্ট্রেস ফ্রিঃ পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীরকে সতেজ করে আমরা যেকোন কাজ বা যেখানেই থাকি না কেন অবশ্যই সঠিক সময়ে বিশ্রাম নিতে হবে।এটী শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করে যা আপনাকে ফিট রাখতে সাহায্য করে।আমাদের অবশ্যই টেনশন ফ্রি থাকতে হবে এটি আমদের জন্য অনেক ক্ষতিকর ,মনকে ভালো করে এবংআনন্দ দেয় এমন কাজ করতে হবে।

শরীরকে ফিট রাখতে কি কি খাবার খেতে পারি?

শরীর সুস্থ না হলে কোনো কাজই মন দিয়ে করা সম্ভব নয়। আর সে জন্য সঠিক বিশ্রাম নেওয়া, স্ট্রেস থেকে দূরে থাকা, ব্যায়াম করার পাশাপাশি নিয়মমাফিক খাওয়াদাওয়াও করতে হবে।শারীরিক সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে কি খাচ্ছি তার ওপর।প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোনো কোনো উপাদান থাকাটা জরুরি অনেকেই হয়ত আমরা জানি না ফলে শরীরের ক্ষতি করছি,আমদের জানতে হবে সঠিক ডায়েট সম্পর্কে।

পানি আমাদের খাদ্যতালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়া উচিত,পূর্ণবয়স্ক মানুষকে দিনে তিন লিটার পানি খেতে হবে এতে আপনার  আপনার শরীর ঝরঝরে থাকবে। কোষ্ঠকাঠিন্যজাতীয় কোনো সমস্যায় ভুগবেন না, পেট পরিষ্কার থাকবে।

প্রোটিন আমদের শরীরের অনেক উপকার করে এটি খাদ্য তালিকা থেকে কোন ভাবে বাদ দেওয়া যাবে না।প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই প্রটিন রাখতে হবে। আমিষ প্রোটিনের মধ্যে ডিম, মাছ, চিকেন  ,নিরামিষ প্রোটিনের মধ্যেহচ্ছে— ডাল, ছোলা,   দুধ, দই, ছানা

কার্বোহাইড্রেট আমাদের শরীরে শক্তির যোগান দেয়।ওজন নিয়ন্ত্রন রাখতে ভাত-রুটি খাদ্যতালিকা থেকে একেবারে বাদ দেওয়া যাবে না নির্দিষ্ট পরিমানে খেতে হবে।কার্বোহাইড্রেটের সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উৎস – প্রক্রিয়াবিহীন বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত  শস্য, শাকসবজি, ফল এবং মটরশুটি যা ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট সরবরাহ করে সুস্বাস্থ্যে নিশ্চয়তা দেয়।

শরিরে পুষ্টিগুন বজায় রাখতে ফাইবার এবংভালো মানের ফ্যাট অত্যান্ত গুরত্বর্পুন। প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ, রাতের খাবার– এসবই কিছু না কিছু সবজি যেন থাকে তা দেখবেন,মৌসুমি সবজি ও শাকপাতা ফাইবারের ভালো উৎস।বাদাম, অ্যাভাকাডো, মাখন, ঘি, নন-রিফাইন্ড তেল  আপনাকে ভালো ফ্যাটের জোগান দেবে।

সুতরাং যে হারে লাইফস্টাইল ডিজ়িজ়ের সংখ্যা বাড়ছে এবং তা মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছ; একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে- হোকনা আপনি যেমনি সাইজ বা আকারের ফিট থাকাটা একান্তই জরুরি।নিয়মিত এক্সাসাইজ ,সঠিক খাদ্যতালিকা এবং সচেতনা আমদেরকে ফিট ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

Content Developer : Nahida Akter

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *