ঘন, কালো, মজবুত এবং ঝলমলে চুল কার না পছন্দ! আর এর জন্য আমরা কত কিছুই না করি। অনেক দামি হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট, শ্যাম্পু, কন্ডিশন আরও কত কি। কিন্তু এত কিছুর থেকে ঘরে থাকা খুব সাধারণ কিছু উপাদান এর ব্যবহার এ আমাদের আশানুরূপ চুল পাওয়া সম্ভব। এমনই খুব সহজ এবং হাতের কাছে থাকা কিছু উপাদান দিয়ে আমরা আমাদের চুলের যত্ন নিতে পারি।
১.টক দই এবং মধুর হেয়ার মাস্ক: টক দই এবং মধু চুলের ন্যারেশ এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ঘরোয়া প্রতিকারটি শুধুমাত্র চুলের বৃদ্ধি করবে না বরং খুশকির বিরুদ্ধে লড়াই করবে, আপনার চুলকে হাইড্রেটেড এবং স্বাস্থ্যকর রাখবে।
উপাদান:
- ৪ টেবিল চামচ দই
- ২টেবিল চামচ মধু
কিভাবে ব্যবহার করবেন এই মাস্ক ?
একটি বাটিতে মধু এবং টক দই নিয়ে ভালো ভাবে মিক্সড করুন , যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা ঘন এবং মসৃণ হয়। এবার মিশ্রণটি গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ব্যবহার করুন, লক্ষ করবেন চুল যেন ভালোভাবে কভার হয়।
ভালো ফলাফল এর জন্য মিশ্রণটি ২০-৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো ভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই হেয়ার মাস্ক এর মাধ্যমে খুব সহজেই মসৃণ চুল পাবেন।
২.হিবিস্কাস হেয়ার প্যাক: বর্তমান সময়ে এই প্যাকটির ব্যবহার খুব বেশি বেড়ে গেছে। এই প্যাক মূলত হিবিস্কাস জাতীয় উদ্ভিদ থেকে করা হয় যেমন: জবা ফুল, ভেন্ডি বা ঢেঁড়শ ইত্যাদি। তবে আমরা জবা ফুল এবং এর পাতাই বেশি ব্যবহার করে থাকি। এই উপাদান চুলের গ্রোথ বৃদ্ধিতে এবং চুলের হেলথ এর জন্য উপকারী। এছাড়াও এটা চুল পড়া রোধ করে থাকে এবং স্ক্যাল্প ন্যারেশ করে।
উপাদান:
- ফ্রেশ জবা ফুল,
- পাতা অথবা ফ্রেশ ঢেঁড়শ
কিভাবে ব্যবহার করবেন এই প্যাক ?
ফ্রেশ জবা ফুল এবং পাতা গাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে, তারপর ভালো ভাবে ধুয়ে নিতে হবে। ব্লেন্ডার এর সাহায্যে একটা মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি যোগ করুন।
চুলকে ভাগ করে নিয়ে এই পেস্টটি স্ক্যাল্প এবং চুলে ব্যবহার করুন । কয়েক মিনিট স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন সার্কুলেশন এর জন্য। এ প্যাকটি ৩০-৪৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো ভাবে চুল ধুয়ে ফেলুন ।
৩. পেঁয়াজের রস: ঘন চুল কেই বা না চাই আর তা পাওয়া সম্ভব ঘরে থাকা এই পেঁয়াজ থেকে। পেঁয়াজ এর মধ্যে রয়েছে চুল ঘন করা ছাড়াও চুলের স্বাস্থ্য উন্নতির ক্ষমতা। পেঁয়াজের রস ব্যবহার এর মাধ্যমে স্ক্যাল্প এর রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় যা চুলের গ্রোথ ত্বরান্বিত করে।
উপাদান:
- একটি পেঁয়াজ
- ২ টেবিল চামচ নারিকেল এর তেল
- ১/২ টেবিল চামচ লেবুর রস
- ১ টেবিল চামচ মধু
কিভাবে ব্যবহার করবেন এই প্যাক ?
একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে সকল উপাদান মিক্সড করুন। তারপর মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভালো ভাবে ব্যবহার করুন। মিশ্রণটি আধ ঘন্টা রেখে দিন এবং তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
৪. কলা এবং নারিকেল এর হেয়ার প্যাক : নারিকেল আমাদের চুলের যত্নে বহু কাল আগে থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এটি শুধু আমাদের চুল এবং স্ক্যাল্প কে ন্যারেশ করে না বরং আমাদের চুলের গ্রোথ ও বাড়ায়। কলা আমাদের চুলের যত্নে একটি নতুন উপাদান এতে রয়েছে প্রচুর পটাসিয়াম যা আমাদের চুলের ভেঙে যাওয়া রোধ করে, চুল এর আগা ফাটাও কমায়।
উপাদান:
- ১ টি পাকা কলা
- ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল
- ২ টেবিল চামচ নারিকেল এর দুধ
কিভাবে এই হেয়ার প্যাক ব্যবহার করবেন ?
প্রথমে পাকা কলাটি কে ব্লেন্ডার এ ভালো করে ব্লেন্ড করে নিবেন তারপর তাতে এক এক করে নারিকেল এর তেল এবং নারিকেল এর দুধ দিন। সকল উপাদান ভালো ভাবে মিক্সড করুন। তারপর মিশ্রণটি চুলে এবং স্ক্যাল্প এ ব্যবহার করুন। ৩০-৪০ মিনিট মিশ্রণটি রেখে দিন আর তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন প্রয়োজনে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
৫. টক দই এবং মেথির হেয়ার প্যাক : টক দই এ রয়েছে ল্যাকটিক এসিড যা আমাদের স্ক্যাল কে পরিষ্কার করে এবং আমাদের চুলের গ্রোথ ত্বরান্বিত করে । অপরদিকে মেথিতে রয়েছে প্রোটিন আর নিকোটিনিক এসিড যা চুলকে ঘন করে।
উপাদন:
- ২ টেবিল চামচ মেথি গুঁড়া
- ৪ টেবিল চামচ টক দই
কিভাবে এই হেয়ার প্যাক ব্যবহার করবেন ?
মেথি গুঁড়াটিকে এক রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। যদি গুঁড়া না পান তাহলে মেথি ভিজিয়ে রেখে পরদিন ব্লেন্ড করে পেষ্ট তৈরি করুন। এরপর এটি টক দই এর সাথে ভালো ভাবে মিক্সড করুন। এই মিশ্রণটি ৩০-৪৫ মিনিট চুলে রেখে দিন এবং ধুয়ে ফেলুন।
এসকল DIY এর ক্ষেত্রে আমাদের মাথায় রাখতে হবে এগুলোর মাধ্যমে আপনি রাতারাতি ফলাফল কখন পাবেন না। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে একদিন করে এই প্যাকগুলো ব্যবহার করুন ।

