দরজায় কড়া নাড়ছে শীত,শীতের আমেজ সবার মনে ছড়িয়ে পরেছে।কিন্তু অনেকের মনে ভয়ের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।কারন শীতের শুষ্ক হাওয়া ত্বক রুক্ষ করে দেয়।ফলে অনেকের হাত-পা এবং ঠোঁট ফাটা সমস্যা দেখা দেয়।আবহাওয়ার সিজিন পরিবর্তন হলে সাধারনত এই ধরনের সমস্যাগুল দেখা দেয়। এই নিয়ে আর চিন্তা নয় শীতের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে সে অনুযায়ী ত্বক পরিচর্যা করলে খুব সহজেই আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন ।

শীতে হাত-পা এবং ঠোঁট ফাটার কারণঃ
যদিও বছরের যে কোনো সময় হাত-পা এবং ঠোঁট ফেটে যেতে পারে, তবে এগুলি শীতকালীন একটি সাধারণ রোগ।শীত মানেই ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাসে সামান্য আর্দ্রতা আপনার ত্বককে শুষ্ক করে দেয়। যদিও বেশিরভাগ লোকেরা নিজেদের উষ্ণ রাখতে মনে রাখে, কিন্তু হাত পায়ের যত্নের কথা ভুলে যায়! আপনার হাত,পা স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় শুষ্ক হয় এবং শীতের মাসগুলিতে তাদের শুষ্কতা এবং ক্র্যাকিংয়ের প্রবণতা বেশি করে তোলে।এর আরো কিছু কারন রয়েছেঃ
- ঘন ঘন গরম পানিতে গোসল করা।
- দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা।
- বেশি ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করা।
- খালি পায়ে হাটা।
- বেশিক্ষ্ণণ রোদের তাপে থাকলে হাত-পা এবং ঠোঁট ফাটতে পারে।
- ভিটামিন এ, সি এবং ই এর অভাব।
- বেশিক্ষণ পানিতে কাজ করা।

এই শীতে হাত, পা, রক্ষায় কি করতে পারি?
হালকা গরম পানিতে নিয়মিত হাত,পা ভিজিয়ে রাখলে ত্বক নরম ও মসৃণ থাকে। গরম জল ব্যবহার করবেন না কারণ ত্বকের ন্যাচরাল ওয়েল সরিয়ে ফেলবে এবং আপনার ত্বকের শুষ্কতার প্রবণতা বাড়িয়ে দেবে। পানিতে ময়শ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য যোগ করতে ইপসম লবণ, ওটমিল, বাটারমিল্ক এবং মধু যোগ করতে পারেন।
রোদে বেশি সময় থাকলে বা সূয্যের ক্ষতিকারক রশ্নি স্কিনে ক্ষতি করে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করতে ভুলবেন না। আপনার পায়ে ঘর্ষণ বা অতিরিক্ত চাপ এড়াতে আপনার জুতা যেন খুব বেশি ঢিলে বা টাইট না হয় তা নিশ্চিত করুন।
আপনার হাত পা ভিজানোর পরে, মরা চামড়া অপসারণ করতে এবং স্কিনকে মসৃণ করতে একটি পিউমিস স্টোন বা ফুট ফাইল দিয়ে আলতোভাবে আপনার পা এক্সফোলিয়েট করুন।এতে পায়ের মরা চামড়া উঠে যাবে।মাসে একবার মেনিকিউর ও পেডিকিউর করুন।গ্লিসারিন দিয়ে হাত,পা কিছু ক্ষণ মাস্যাজ করুন।

গোসল করে উঠলে,হাত পা ধুলে বা এক্সফোলিয়েটিং করলে, ময়শ্চারাইজ করতে ভুলবেন না! একটি ভাল মানের ময়শ্চারাইজার ব্যাবহার করুন যা আপনি প্রতিদিন সকালে এবং রাতে লাগাতে পারেন।গোসল করার পরে ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়, আপনার ত্বক নরম, মসৃণ এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে ১০ মিনিটের মধ্যে ময়শ্চারাইজ করার চেষ্টা করুন। আপনার পায়ে ম্যাসাজ করুন এবং মোজা বা টাওয়াল দিয়ে পায়ের গোড়ালি ঢেকে রাখুন এটী অনেকক্ষণ স্কিন ময়শ্চারাইজ রাখে।
আমরা প্রায় শীতকালে পানি কম খায় এতে আমাদের শরীর পানি শুণ্যতায় ভুগে ফলে ত্বক রুক্ষ হইয়ে যায় যার কারনে হাত, পা ফাটার মত সম্যসা দখা দেয়, তাই সবসময় যে কোন সিজিনে পরিমিত পানি পান করতে হবে।এতে আমদের শরীর হাইড্রেট থাকবে।
শীতকালে আপনি ঘরে হিউমিডিফায়ার রাখতে পারেন এটা আপনার ঘুমের সময় বাতাসে আর্দ্রতা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করবে এবং এই শীতে আপনার ত্বক খুব শুষ্ক, জ্বালাপোড়া বা চুলকানি থেকে রক্ষা পাবে।
শীতকালে প্রায় আমদের ঠোঁট ফাটার সমস্যা দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হল ত্বকের চেয়ে ঠোঁটের শুষ্কতা বেশি।একটি নন-ইরিটেটিং লিপ বাম (বা ঠোঁটের ময়েশ্চারাইজার) দিনে কয়েকবার এবং শোবার আগে লাগান। যদি আপনার ঠোঁট খুব শুষ্ক এবং ফাটা হয়, তাহলে একটি ঘন মলম ব্যবহার করে দেখুন, যেমন সাদা পেট্রোলিয়াম জেলি। বেশি সময় ময়েশ্চারাইজার ধরে রাখে। বাইরে যাওয়ার আগে SPF 30 বা সানস্ক্রিন যুক্ত লিপ বাম লাগান।
হাত-পা এবং ঠোঁটর স্কিন যদি জ্বালাপোড়া করে,চুলকানি,বা অতিরিক্ত ফেটে যায় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
একটু সচেতন হলে আমরা সহজে এই সমস্যাগুলথেকে রক্ষা পেতে পারি।আগে থেকে আমরা যদি সতর্কতা অবলম্বন করি তাহলে পা ফাটার সমস্যাগুলোর অধিকাংশই এড়ানো সম্ভব।তাই আর নয় চিন্তা উপরোক্ত উপায় গুলি অনুসরণ করলে আপনি সমস্যাগুলি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।তাই মন খুলে শীতের আনন্দ উপোভোগ করুন।
Content Developer : Nahida Akter

