এই গরমে বাচ্চাদের যত্নে যেই বিষয়ে সতর্ক থাকবেন  

প্রচন্ড রকমের গরম, সাথে কুরবানী ঈদের মৌসুম। এ সময় একটু অস্থিরতা আর বিশৃংখলা চলে আসা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু, এই অসচেতনতার সুযোগেই ঘরে ঢুকে পড়তে পারে অসুস্থতা। তাই যাই করুন একটু সচেতনতা নিয়ে করুন।

ছোট বাচ্চাদের জন্য তাদের জন্য হজমে সহজ এবং হালকা ঝাল মশলার খাবার ব্যবস্থা রাখুন। যে মায়েরা বাচ্চাকে দুধ দেন, তারাও একটু সচেতন থাকবেন। ডাক্তার তা মূলত কখনোই ব্রেস্ট ফিডিং মায়েদের কোন রকম খাবার খেতে মানা করেন না। কিন্তু, যাদের অভিজ্ঞতা আছে তারা জানেন। মা যা খায় তার সব গুলোই দুধ আকারে বাচ্চার পেটে যায়। খাবার যদি একটু কড়া ধাঁচের হয় তো মায়ের হজমে কোন সমস্যা না হলেও বাচ্চার ক্ষেত্রে তা বোঝা যায়।

দেখবেন বাচ্চার বমি হয় ঘন ঘন। গ্যাস ফর্ম করে। অনেক সময় পেটের ব্যাথাও হয়ে থাকে। আর প্রচন্ড গরমে ডায়রিয়া, বমি এ অসুখ গুলো খুব সাধারণ। তাই যে মা বাচ্চাকে বুকের দুধ দিচ্ছেন অবশ্যই নিজের খাবার বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। ঈদের উৎসবে পরিবারের সবার সাথে একাত্ম হয়ে থাকলেও বাচ্চার ও নিজের ভালো সবসময় বুঝে চলবেন।

গরমে ছোট শিশু খাওয়া দাওয়া: গরমের মধ্যে বাচ্চাদের খাওয়ার চাহিদা কমে যায়। জোর করার কোন প্রয়োজন নেই। শুধু খেয়াল রাখবেন, যখন ক্ষুধা লাগবে তখন যে ভালো এবং ফ্রেশ খাবার খাওয়াতে পারেন। খাচ্ছে না বলে বাচ্চাকে ডীপ ফ্রায় করে চিকেন বা আলু দিলেন। বেশি সস, চীজ দিয়ে কোন একটা খাবার বানিয়ে দিলেন। পোলাও বা ফ্রাইড রাইস এগুলো একদম না। এই খাবার গুলো শরীরে পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। দ্রুত হজম হয় না। ফলে বদহজম হতে পারে। এ থেকেই বমি, এসিডিটি বা ডায়রিয়া র সূত্রপাত হতে পারে। তাই খুবই সাবধান। কম খাওয়া দাওয়া করুক,কিন্তু ভালো থাকুক বাচ্চা। খেয়াল রাখবেন বাচ্চার খাবার যেন ফ্রেশ থাকে। গরমে খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। সকালে রান্না করে রেখেছেন, তখন বাচ্চা খেল না। দুপুর গড়াতে গড়াতেই তা গন্ধ ধরে যেতে পারে। আপনি হয়তো খেয়াল করলেন না, এরমধ্যেই কোন একসময় বাচ্চা নিজে যেয়ে তা খেয়ে ফেললো। তাই  খাবার ভালো মতো সংরক্ষণ করুন। বাচ্চা ও বাড়ির বয়স্ক মানুষেরা যেন বিশেষ ভাবে বাসি খাবার এড়িয়ে চলে তা নিশ্চিত করুন।

বাচ্চাকে পানি পান করান: নবজাতক থেকে ৬ মাস পর্যন্ত তো শুধু বুকের দুধই যথেষ্ট। এই বয়সী বাচ্চার মাকে প্রায় ৩ গুণ পানি পান করা উচিত এবং বাচ্চাকে ঘন ঘন দুধ পান করানো উচিত। যেন মা ও বাচ্চার শরীরে পানির সল্পতা দেখা না দেয়।

৬ মাস বয়সী শিশুকে দুধ ও অন্যান্য খাবার দেওয়ার পরপরই একটু করে পানি দিয়েন। এতে করে মুখের ভেতর টা পরিষ্কার হয়ে যাবে এবং পানি খাবার একটা অভ্যাস তৈরি হবে। এমনিতে ৩০/৪০ মিনিট অন্তর অন্তর পানি পান করান বাচ্চাকে। কারণ, ও পিপাসার কথা বলতে পারে না।

পোশাক পরিচ্ছদ : বাচ্চার জন্য সবচেয়ে আরাম দায়ক কাপড় বেছে নিন ঘরে বাইরে সব জায়গায়। পাতলা  পিওর সুতি কাপড় এই আবহাওয়ায় সবচেয়ে আরাম দায়ক। বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলেও নরম সুতি কাপড়ের পোশাক কে প্রাধান্য দিন। গর্গিয়াস, ভারী, সিনথেটিক কাপড়ে দেখতে আকর্ষণীয় দেখালেও তা মোটেই আরাম দায়ক নয়। বাচ্চা গরমে অল্প সময়পরই কান্নাকাটি শুরু করে দিতে পারে। কষ্ট থেকে তারা এমন রিয়্যাক্ট করে।

বাইরে খেলা ধুলা ঘরের পরিবেশ: এই অতিরিক্ত গরম বা গরমের সময় টা বাচ্চাকে ঘরে ধরে রাখুন। সকাল ১০ টার পর রোদের প্রখরতা বাড়তে থাকে। তাই বেলা করে মাঠে খেলা করা এইসময় স্বাস্থ্যের জন্য  মারাত্মক ঝুঁকি। হিট স্ট্রোক এর সম্ভাবনা থাকে।

দুপুর এর দিকে ভারী পর্দা বা জানালা দরজা বন্ধ করে বা কিছুটা টেনে রেখে ঘরে তাপ প্রবেশ কে বাঁধা দিন। বাতাসের চলাচল ঠিক রেখে ঘরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করুন।এ ঘরের পরিবেশ আরামদায়ক হবে। বাচ্চার ঘুমাতে সুবিধা হবে। ঘরের ভেতর বালতি তে পানির সাথে আইস টুকরো দিয়ে রাখলে ঘরের তাপ কিছুটা কমে আসে।

বাচ্চা ঘেমে গেলে করণীয়: বাচ্চা ঘেমে গেলে দ্রুত ঘাম মুছে দিন শুকিয়ে যাবার আগে। জামা বদলে দিন। প্রয়োজনে হালকা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিন।

বাইরে থেকে আসার পর সাথে সাথে গোসল দিয়ে দিবেন না। ফ্রিজের ঠান্ডা পানিও দিবেন না। পানি দিবেন একটু পরে এবং সাধারণ তাপমাত্রার পানি। প্রচন্ড গরম থেকে আসার পর ঠান্ডা পানিতে জ্বর সর্দিতে আক্রান্ত হতে পারে।

বাচ্চারা তো কথা বলতে পারে না। যারা কথা বলতে শিখে গেছে তারাও নিজের সুবিধা অসুবিধা ভালো মন্দ গুছিয়ে বলতে পারে না। তারা তাদের সব রকম দরকারের এজন্যই বাবা  মা এর ওপর নির্ভরশীল। এজন্য যাদের ঘরে ছোট বাচ্চা আছে তারা সবাই একটু বিশেষ যত্নশীল থাকবেন বাচ্চার প্রতি। কথায় আছে  সুস্থতাই সকল সুখের মূল। এই ছোট্ট ছোট্ট সোনামণিদের সুস্থতা সব পরিবারের সুখের উৎস।

Share

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *