নাদুস নুদুস বাচ্চা কে না পছন্দ করে,এদের দেখলে আমরা খুশি হয়ে যায় আবার অনেক বাবা মা চাই তাদের বাচ্চা রোগা পাতলা না হোক গলুমলু হোক, চাওয়াটা দোষের কিছু নয়।একটি সু-স্বাস্থ্যবান বাচ্চা একটি পরিবার, একটি ঘরের সৌন্দর্য কিন্তু আমরা অতিরিক্ত আনন্দে ভুলে যায় কোনটা স্বাভাবিক আর কোনটা অস্বাভাবিক সুতরাং আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে সেটা যেন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে না যায়।আজকাল বড়দের সাথে পাল্লাদিয়ে বাড়ছে ছোটদের ওজন যা সাম্প্রতিক সময়ে একটি আলোচিত সমস্যা।তাই শিশুদের বেলায় অধিক সচেতন হতে হবে।

আমরা কখন বলতে পারি বাচ্চাটি ওভারওয়েট?
আপনার সন্তানের ওজন অস্বাভাবিক কিনা তা খুঁজে বের করার একটি উপায় হল,তার বডি মাস ইনডেক্স (BMI)চেক করা , একজন ব্যক্তির উচ্চতা এবং ওজনের উপর ভিত্তি করে এটি পরিমাপ করা হয়।পরবর্তী ধাপ হল রোগ Centers for Disease Control and Prevention (CDC) থেকে দেওয়া উচ্চতা অনুযায়ি বাচ্চাদের চার্টের উপর ভিত্তি করে একই বয়স ও অন্যান্য শিশুদের BMI-এর সাথে আপনার সন্তানের BMI তুলনা করা,একে বলা হয় BMI পার্সেন্টাইল। এটি আপনার সন্তানের “বয়সের বয়সের ওপর র্নিভর করে BMI” দেবে, এমন একটি সংখ্যা যা আপনাকে বলতে পারে যে আপনার সন্তানের ওজন কম বা বেশি, বা অতিরিক্ত ওজন আছে কিনা।
বাচ্চাদের ওজন বাড়ার কারণঃ
বাচ্চাদের স্থূলতা একটি জটিল অবস্থা যার অনেক কারণ রয়েছে।আপনার সন্তানের বৃদ্ধি এবং বিকাশের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালোরি প্রয়োজন। কিন্তু যখন তারা তাদের ব্যবহারের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করে, তখন তাদের শরীর অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরের চর্বি হিসাবে সঞ্চয় করে ফলে ওজন বাড়ে ।জেনেটিক কারণগুলি আপনার সন্তানের স্থূলতা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয়, মানসিক চাপের কারণেও শিশুর ওজন বাড়তে পারে।
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকার স্বাস্থ্য ঝুঁকি কি?
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা আপনার সন্তানের স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।আক্রান্ত হতে পারে বিভিন্ন রোগেঃ
- শ্বাসকষ্ট
- জয়েন্টে ব্যথা
- উচ্চ রক্তচাপ
- উচ্চ কোলেস্টেরল
- নন অ্যালকোহলযুক্ত ফ্যাটি লিভার
- টাইপ 2 ডায়াবেটিস
স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হওয়ার প্রবনাতা দেখা দিতে পারে যেমনঃ
- কম আত্মবিশ্বাস
- বিষণ্নতা
- ইটিং ডিসঅর্ডার
কীভাবে আপনি আপনার সন্তানকে ওজনে কমাতে এবং সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে পারেন?
শিশুদের স্থুলতার হাত থেকে রক্ষার জন্য বাবা-মা’র ভূমিকা অনেক। আপনার শিশুর সুসাস্থের চাবিকাঠি আপনার হাতে ,মা বাবাই পারে বাচ্চাকে যেকোন বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে।তাই যখন দেখছেন আপনার শিশু ওজন বেড়ে মুটিয়ে যাচ্ছ, আর বসে না থেকে এক্ষণি আপনার বাচ্চাকে সহায়তা করুন।বাচ্চার ওজন কমাতে মা,বাবার করণীয় আলোচনা করা হলোঃ

খাওয়ার পরিকল্পনাঃ
বাচ্চাদের বেড়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার প্রয়োজন।আমরা অনেক সময় আবেগের বশে বাচ্চাকে বাইরের অসাস্থকর খাবার হাতে তুলে দেয় ফলে বাচ্চার ওজন বাড়ে।এইজন্য দরকার সচেতনা,বাচ্চাকে নিয়মিত সুষম খাবারের অভ্যাস করুন যাতে সারাদিনের পুষ্টি চাহিদা পুরণ হয়। শিশুর খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারগুলো একটু কমিয়ে দিন, ডিপ ফ্রাই করা খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন । খাবারে প্রোটিন এবং ফাইবারের পরিমাণ নির্দিষ্ট পরিমাণে বাড়িয়ে দিন। শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খাওয়ান।বাচ্চাকে কখোনই খালিপেটে রাখা যাবে না বাচ্চা যাতে রুটিনমাফিক খাওয়া দাওয়া করে সে দিকে খেয়াল রাখুন এবং নিজেরাও পুষ্টিকর খাবার খান এতে বাচ্চা দেখে ভালো খাবারে উৎসাহিত হবে।আপনার সন্তানকে টেলিভিশন, কম্পিউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সামনে খেতে দেওয়া এড়িয়ে চলুন।

বাচ্চাদের শরীরচর্চায় উৎসাহিত করুনঃ
অনেকে মনেকরে শরীরচর্চা সধুমাত্র বড়দের জন্য কথাটি ভুল বাচ্চারাও এটি করতে পারে।আপনার শিশুটিকে খেলাধুলা করা ,নিয়মিত সাইকেল চালানো,দৌড়ঝাপ করা,সাঁতার কাঁটা ,শিশুদের শরীরচর্চা সবচেয়ে ভালো মাধ্যম এইগুলতে শিশুকে উৎসাহিত করুন।যা অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করবে। লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ির ব্যবহার, , বাড়ির কাজে শিশুর অংশগ্রহণ,প্রতিদিন বাইরে খোলামেলা পরিবেশে হাঁটাহাঁটি করা ইত্যাদি শিশুকে ফিট থাকতে সাহায্য করে।

ডিজিটাল ডিভাইস ব্যাবহার নিয়ন্ত্রণ করুনঃ
বর্তামান সময়ে দেখাগেছে বড়দের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাচ্চাদের ডিজিটাল ডিভাইস দেখার প্রবণতা ,যা তাদের বিকাশের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর।গবেষণায় দেখা গেছে যে বাচ্চারা টেলিভিশন দেখার জন্য অনেক সময় ব্যয় করে এবং যাদের শয়নকক্ষে টেলিভিশন রয়েছে তাদের শৈশবকালীন স্থূলতার ঝুঁকি বেশি ।বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে শিশুদের টেলিভিশন দেখা, ভিডিও গেম খেলা বা স্মার্টফোন ব্যবহারে সময় ব্যয় সীমিত করার কথা বলেন।বসে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি বা মোবাইল গেম খেলা শরীর ও চোখ উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং সারাদিন বসে থাকের জন্য শরীর মুটিয়ে যায় ফলে ওজন বাড়ে।আপনার বাচ্চাকে এইসব জিনিস ব্যাবহার এর খারাপ দিক সম্পর্কে আলচনা করুন।তাদের সাথে সময় কাটান,অবসর সময়ে গল্পের বই পড়ার অভ্যাস করুন ,খেলাধুলা করতে উৎসাহ দিন।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাসঃ
একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিকল্পনা অনুসরণ করা এবং নিয়মিত শরীরর্চর্চা করার পাশাপাশি আপনার সন্তানের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম আপনার সন্তানকে স্কুলে ভালো করতে, অসুস্থতা ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজনে পৌঁছাতে ও বজায় রাখতে সাহায্য করে ।পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিটি শিশুকে নিয়ম মেনে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে ।প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের বেশি ঘুমের প্রয়োজন। বাচ্চাদের ঘুমের সময় বয়স অনুসারে পরিবর্তিত হয়।
শিশুকে মানসিকভাবে সহায়তা করুনঃ
বাচ্চারা বড়দের কাছে থেকে যত্নশীল আচারন,মানসিক সমর্থন,তাদেরকে বোঝা এবং উৎসাহ আশা করে । নিজেদের সম্পর্কে তাদের অনুভূতি কেমন তা তাদের পিতামাতা এবং অন্যান্য যত্নশীলরা তাদের সম্পর্কে কেমন মনে করে তার উপর নির্ভর করে। আপনার সন্তানকে বলুন যে তারা প্রিয়, বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ।শিশুদের সাথে স্বাস্থ্যকর আচরণ স্বাস্থ্যকর ওজনে সহায়তা করে|তাদের মনের কথা শুনুন , আপনার সন্তানের সাফল্যকে প্রশংসা এবং ভালবাসা দিয়ে পুরস্কৃত করুন,তাদের সাথে কঠোর আচারন পরিহার করে তাদের সাথে বন্ধুতপুর্ন সম্পর্ক তৈরি করুন।এতে তার মনমানসিকতা ভালো থাকবে।
সর্বোপরি বাবা-মা’র সচেতনতাটাই আসল।তারা সারাদিন কি করছে ,কি খাচ্ছে ,কোথায় যাচ্ছে ,তাদের মনের অবস্থা কেমন সবকিছু জানুন খেয়াল রাখুন।ওজন বৃদ্ধি ছাড়া তাদের আর অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতা আছে কিনা তাও খেয়াল রাখতে হবে,প্রয়োজনে চিকিৎসক এর কাছে নিতে হবে।একজন মা বাবায় পারে একটি সুস্থ্য ও সু-স্বাস্থ্যবান শিশু গড়ে তুলতে।
Content Developer : Nahida Akter

